হাসানুজ্জামান
বাবা মায়ের কথা অমান্য করে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ে করেছে অবাধ্য এক ছেলে। বিয়েতে বাধা দেয়ায় পিতা-মাতার উপর হামলা চালায় ওই পুত্র। ঘটনাটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৭ টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বসুপাড়া গ্রামে ঘটে। জানা যায়, ওই গ্রামের চেয়ারম্যান বাড়ির আবদুর রহমানের পুত্র মাহবুব আলম একই বাড়ির মীর হোসেনের কন্যা তামান্না আক্তার মীমকে বিয়ে করে। এবিষয়কে কেন্দ্র করে পুত্রের হামলায় পিতা-মাতাসহ ৪ জন আহত হয়। আহতরা হলেন, আবদুস সামাদের পুত্র আবদুর রহমান, মোঃ মিজানুর রহমান, আবদুর রহমানের স্ত্রী ছালেহা বেগম ও তাদের পুত্র মাহবুব আলম। আহত আবদুর রহমান বলেন, আমি কৃষকের কাজ করে অতি সাধারণ জীবন যাপন করি। অনেক কষ্টে মাহবুবকে লিখাপড়া পড়া করিয়েছি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। অথচ মীর হোসেনের স্ত্রী আমেনা বেগম আমার ছেলেকে ফুসলিয়ে তার নাবালিকা মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছে। আমরা এ বিয়ে না মানায় আমার ছেলে মাহবুব আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমার ভাই মিজান, আমার স্ত্রী ছালেহা বেগমসহ আমি আহত হই। এব্যাপারে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। মাহবুবের মা ছালেহা বেগম বলেন, আমি এক দুখিনী মা। সন্তানের সুখের আশায় নিজে কষ্ট করেছি। আজ ওই সন্তানের আঘাতে ভাঙ্গা হাত নিয়ে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছি। আমেনার কারনে আজ আমার এই অবস্থা। তিনি আমেনাসহ জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ট বিচার দাবি করেন। ঘটনাকারী মাহবুব বলেন, আমি আমার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করেছি। বাবা মা’কে এঘটনা পরে জানিয়েছি। কিন্তু তারা মেনে না নিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেন। আমি অপারগ হয়ে মীমদের ঘরে উঠি। এখন তারাই আমার ভরসা। এক প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আমার চাচা মিজানের পুত্ররা আমার উপর হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত হলে আমার শ্বাশুড়ি আমাকে শাহরাস্তি হাসপাতালে ভর্তি করান। অভিযুক্ত আমেনা বেগম বলেন, ছেলে মেয়ে বিয়ে করেছে তাতে আমি বা আমাদের করার কিছু নেই। তারা তাদের পছন্দে এ কাজটি করেছে। কিন্তু বাড়ির চাচা হিসেবে মিজানের ভূমিকা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। উল্টো তার ছেলেরা মাহবুবকে মেরে মাথা ফাটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এলাকাবাসী বলেন, আমেনার কন্যা জনিত ব্যবসা বহু আগ থেকেই। কিন্তু অসহায় একটি পরিবারের চরম ক্ষতি করেছেন তিনি। অন্যদিকে মাত্র ১৩ বছরের মীমকে মাহবুবের সাথে বিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রীয় আইন ভঙ্গ করেছেন। তাই আমেনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তারা। প্রসঙ্গতঃ তামান্না আক্তার মীম সূচীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। আগামী ১ নভেম্বর তার জেএসসি পরিক্ষা।
