কিশোরী প্রেমিকা তার প্রেমিক সিফাতের (২০) ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়িতে যায় ১৩ মে শনিবার সন্ধ্যা বেলা। রাত ৩টায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই কিশোরীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের সাইজি বাড়ির প্রবাসী শাহ আলমের ছেলে সিফাতের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো কালিয়াইশ গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে নুরুন নাহারের (১৫)। তাদের দু’জনের সম্পর্ক কিছুতেই মেনে নিতে চায়নি ছেলের পরিবার। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিফাত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নুরুন নাহারকে তাদের বাড়িতে আসতে বলে। খালার বাড়িতে যাচ্ছি বলে নুরুন নাহার সিফাতের বাড়ি চলে আসে। রাত আড়াইটায় সিফাতের মা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নুরুন নাহারের মাকে জানায়, তার মেয়ে তাদের বাড়িতে রয়েছে, তারা যেন এসে তাকে নিয়ে যায়। খবর পেয়েই পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে দেখেন, নুরুন নাহার সিফাতদের ঘরের দোরগোড়ায় পড়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দেখে সে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘মা’ আমাকে বাঁচান, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান, আমি সব বলবো’। ওই অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নারায়ণপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত কিশোরীর বড় ভাই ইব্রাহিম দাবি করেন, তার বোনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসী শাহ আলমের ছেলে সিফাত ও তার বন্ধুরা জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং খাবারের সাথে কোনো কিছু খাইয়ে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে সিফাতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে তাদের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ ইন্সপেক্টর (ওসি) কুতুব উদ্দিন।
