
দুই মাস অলস সময় কাটানোর পর ১ মে থেকে নদীতে মাছ ধরতে নেমেছে চাঁদপুর জেলার ৪টি উপজেলা হাইমচর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার হাজার হাজার জেলে। তাদের সাথে পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার বহু জেলেও মাছ শিকারে নদীতে নেমেছে। তাদের মাছ ধরতে এখন আর কোনো বাধা নেই। দল বেঁধে তারা এখন মাছ শিকারে ব্যস্ত। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলে পরিবারগুলোতে। জেলেরা উৎসবমুখর পরিবেশে বিনা বাধায় দিন-রাত এখন মাছ ধরতে পারছে।
জেলার বিভিন্ন মাছের আড়তে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ব্যস্ত হয়ে উঠেছে জেলে, আড়তদার, মহাজন, সুতা ও জাল এবং ইলিশ ব্যবসায়ীরা। ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের আড়তগুলো আস্তে আস্তে সরগরম হয়ে উঠছে। এখানকার বাবুল হাজীর আড়তের হাজী ছিদ্দিক আলী জানিয়েছেন, প্রথমদিনে তেমন মাছ নাই। হাজী হযরত আলী বেপারীর আড়তের পরিচালক মোঃ আলী আকবর বলেন, দুই মণ ইলিশ হবে ঘাটে এসেছে। বেশিরভাগ পোয়া মাছ। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির পরিচালক মোঃ সুমন খান জানান, জাটকার এই সময়ে মাছ কম হয়, তাই মাছঘাট প্রায় ইলিশ শূন্য। আড়তদার বিল্লাল কাজী জানান, ছোট বড় মিলিয়ে অল্প ইলিশ ঘাটে ক্রয় বিক্রয় মাত্র শুরু হয়েছে। তবে পোয়া, চিংড়ির পরিমাণ বেশি।
মৎস্যজীবী জেলেরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নদীতে নামলেও প্রথম ও দ্বিতীয় দিন তেমন ইলিশ না পেয়ে তারা হতাশ হয়েছেন। রাজরাজেশ্বরের রফিক উল্লা দেওয়ানের নৌকার জেলে আলী আহম্মদ মাল (৫০) ও কুদ্দুছ আলী (৪৫) জানান, সারাদিন এক খেয়ে জাল বেয়ে চার কেজি পরিমাণের ৬টা ইলিশ পেয়ে সাড়ে চার হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তাদের জেলে নৌকায় তারা আটজন ভাগিদার। তারাবুনিয়ার সোহরাব বেপারীর নৌকার জেলে আঃ গণি (৫০) জানান, গাঙ্গে মাছ নাই, তেলের খরচও উঠছে না। নদীতে মাছ না থাকায় গত দু’দিনে নদীতে গুল্টি জেলে নৌকা তেমন নামেনি। একই এলাকার অপর জেলে কুদ্দুছ আলী বলেন, নদীর অভিযানের সাথে মাছও শেষ। অপেক্ষা করবেন মওসুমে ইলিশ পাবার আশায়। এদিকে আরো অনেক জেলে ও নদীর পাড়ের মৎস্য আড়তদার জানান, ইলিশের জালে এবার প্রচুর পোয়া মাছ তারা পেয়েছেন। দুই মাস নদী অনেকটাই নীরব থাকায় ইলিশ ছাড়া নদীর পোয়া, চিংড়ি ও কাঁটা মাছ পাওয়া ছিলো ব্যতিক্রম।
ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে জাটকা রক্ষায় লক্ষ্মীপুর জেলার চরআলেকজান্ডার হতে চাঁদপুর জেলার ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা-পদ্মার ১০০ কিঃমিঃ জল সীমানায় মার্চ-এপ্রিল এ দু’মাস ছিলো ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা। যাকে বলা হয় মাছের অভয়াশ্রম। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে নদীতে ছিলো জেলা প্রশাসনের জোরালো অভিযান। সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় রোববার (১ মে) মধ্যরাত থেকে আবার শুরু হয় জেলেদের মাছ ধরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সফিকুর রহমান বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে ইলিশের অভয়াশ্রম ও জাটকা রক্ষা অভিযান এবার ফলপ্রসূ হয়েছে। আশাকরি জাটকা যেটা সাগরে গিয়েছে, সেটা ফিরে আসবে এবং ইলিশের উৎপাদন গতবারের চেয়ে বেশি হবে।
