মনিরুল ইসলাম মনির :চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার চরপাথালিয়া নূরুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী মোঃ জাহিদ হোসেনকে হত্যার চেষ্টাকারী এমরানকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে শনিবার সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করে।
মানববন্ধন শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোস্তম আলী সিকদার পিপিএম, সুলতানাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত আলী, প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জহিরুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি দেওয়ান মোঃ সেলিম, চরপাথালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীকৃষ্ণ পাল প্রমূখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য আলী আজ্জম প্রধান, সমাজ সেবক সাইফুল ইসলাম রতন, অভিভাবক সদস্য সাহেব আলী, হুমায়ূন কবীর, পরিক্ষিত চন্দ্র দাস, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুনুর রশিদ,ইউপি সদস্য সিরাজ মেম্বার, ইকবাল হোসেন, অভিভাবক মোঃ সহিদ প্রধান, মজিবুর রহমান, আরিফউলাহসহ অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী এমরানকে গ্রেফতার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে মিছিল দেয়।
উল্লেখ্য, জেএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদ হোসেনের বোন র“মা আক্তার বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা অবস্থায় চরপাথালিয়া দাসকান্দি গ্রামের আরশাদ আলী বেপারীর ছেলে এমরান হোসেনের সাথে তার আংটি বদল হয়। পরে সে ওমান চলে যায়। এমরান ওমান চলে যাওয়ার পর রুমা আক্তারকে পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলায় বিয়ে দেয়া হয়। সে সেখানে সুখে শান্তিতেই বসবাস করছে। রুমা আক্তারের বিয়ের কথা শুনে এমরান হোসেন গত ঈদুল আযহার দু’সপ্তাহ পূর্বে ওমান থেকে দেশে চলে আসে। এরপর বিভিন্নভাবে রুমার পরিবারকে হুমকি দেয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে রুমার ভাই জেএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদ হোসেন ট্রলারযোগে নন্দলালপুর সামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে চরপাথালিয়া খেয়াঘাটে আসলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এমরান হোসেন রুমার ভাই জাহিদ হোসেনকে ডেকে নিয়ে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। দায়ের এলোপাতাড়ি কোপে জাহিদ হোসেনের দু’হাত ও মেরুদন্ড ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়া হয়।
শনিবার সকালে জাহিদের সঙ্গে হাসপাতালে থাকা আবুল বাশার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে অপারেশন করে জাহিদের বাম হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলে দেয়া হয়। দায়ের ৪টি কোপে তার হাতের কব্জি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। মের“দন্ডসহ শরীরের বিভিন স্থানে সেলাই করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে রেখে জাহিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হবে। এখন প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা ভালো না। জাহিদের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি। ঘাতক সন্ত্রাসী এমরান হোসেন (২৮) পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এমরানের বাবা-ভাইকে আটক করেছে।
