প্রতিনিধি
পবিত্র রমজান শেষে আসে ঈদ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রতিটি মুসলিম পরিবারের মাঝে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে। আর এই আনন্দে যোগ হয় নতুন নতুন জামা কাপড়, শাড়ি, গহনা থেকে শুরু করে পছন্দের কেনাকাটা। কেনা কাটার জন্য ক্রেতা সাধারণের অপেক্ষায় বসে থাকে দোকানদারগণ। প্রতিটি উৎসবকে কেন্দ্র করে দোকানীদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ দেখা দেয়। তারা পূজা, রোজা, ঈদ পার্বণ উপলক্ষে একটু বেশি বেচা কেনার জন্য ক্রেতা সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং বিভিন্ন উপায়ে পুঁজি সংগ্রহ করে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নিত্য নতুন ডিজাইনের মালামাল আমদানি করে থাকে ব্যাপকভাবে। তাদের আশা ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কিছু উপার্জন করা। আর তাদের এ আশা অমূলক নয়। প্রতি বছরই দেখা যায় ঈদকে সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ীকে লোন নিতে হয় ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও কিংবা মাল্টিপারপাস থেকে। এই লোন নেয়া দেয়ার জন্য রোজার প্রথম দিকে ব্যাংকগুলোতে বাড়তি কোন ভিড় পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু রোজার একেবারে শেষ মুর্হূর্তে এসে ব্যাংক গুলোতে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। কারণ ঈদকে সামনে রেখে কয়েক দিনের জন্য ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে। গত ২৫/২৬ জুলাই সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আজ ২৭ জুলাই একদিন খোলা রেখে আবার ঈদের ছুটি উপলক্ষে ২৮, ২৯, ৩০ জুলাই বন্ধ হয়ে যাবে। আবার ৩১ জুলাই বৃহসস্পতিবার একদিন খোলা রেখে পুনরায় ১/২ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করবে। এই দীর্ঘ সময়ের ছুটির ফাঁকে আটকে যাওয়ার ফলে হয়তো ব্যাংক পাড়ায় ঠিকভাবে স্বাভাবিক গতিতে লেন-দেন নাও হতে পারে। তাই ক্রেতা সাধারণ আগে ভাগেই প্রয়োজনের স্বার্থে টাকা উত্তোলন করতে সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন অর্থাৎ গত ২৪ জুলাই শহরের ব্যাংকগুলোতে ভিড় করতে দেখা যায়। আজ ২৭ জুলাই রোববার হয়তো ভিড় আরো পড়বে।
শুধু যে টাকা উত্তোলনের জন্যই ব্যাংকে ভিড় তা নয়। সামর্থবান সহ ব্যবসায়ীরাও ভিড় জমান দীর্ঘ বন্ধের সূত্রতায় বিক্রিকৃত টাকার নিরাপত্তার জন্য তা-ব্যাংকের ভোল্টের মাঝে রাখতে। আবার সোনালী ব্যাংক সহ শহরের বিভিন্ন ব্যাংকে গ্রাহকগণ ভিড় জমান নতুন চক চকে টাটকা ৫/১০/২০ টাকার বান্ডিল নিতে। তাদের উদ্দেশ্য ঈদের দিন নামাজ শেষে গরিব মিসকিন অসহায় পরিবারের সদস্যদের সহ নিজ পরিবারের সন্তানদের মাঝে এই নতুন টাকা তোলে দিয়ে বাড়তি আত্মতৃপ্তি লাভ করা।
তবে এই নতুন নোট সরবরাহ চাঁদপুর সোনালী ব্যাংক ট্রেজারী শাখা শহরের সব ব্যাংককে দিতে পারেননি বলে মনে হয়। চাঁদপুর অগ্রণী ব্যাংক প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ কমান্ডার মহসীন পাঠানের কাছে লেন দেন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, গতবারের ঈদ উৎসবের চেয়ে এবার ব্যাংকে লেন দেন বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে যে সকল ব্যাংকে অনলাইন ব্যবস্থা রয়েছে। সে সকল ব্যাংকে লেন দেন ছিল বেশি। তার কাছ থেকে নতুন নোট চাওয়া হলে দিতে অপারগতা স্বীকার করে বলেন, নতুন নোটের জন্য অনেক গ্রাহক শুভানুধ্যায়ী এসেছে দিতে না পারার জন্য তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। না দিতে পারার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, সোনালী ব্যাংকের ট্রেজারী শাখায় ৫ লাখ টাকার নতুন নোট চেয়েছিলাম লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে। কিন্তু সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে ১০/২০/৫০ টাকার নোট সরবরাহ করতে পারেনি বিধায় আমিও সম্মানিত গ্রাহকদের বা ব্যাংক শুভানুধ্যায়ীদের নতুন নোট সরবরাহ করতে পারিনি। এই টাটকা নোট না পেয়ে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে এসে ক্ষোভও প্রকাশ করেন।
