DHMS ও BHMS কোর্সকৃতরা হোমিওপ্যাথি’তে অাইনত “ডাঃ” পদবী লিখবে।

গেজেট ও প্রজ্ঞাপনঃ DHMS ও BHMS কোর্সকৃতরা হোমিওপ্যাথি’তে অাইনত “ডাঃ” পদবী লিখবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলো হতে বাংলাদেশে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সে পাসকৃতরা নামের অগ্রভাগে অবশ্যই “ডাঃ” (ডাক্তার) লেখার সরকারী অধিকার প্রাপ্ত।

সূত্রঃ 
১৯৯৮ এর সংশোধিত গেজেট আইন নম্বর ২০৭ দেখুন। লিংক/Link: 
http://www.dpp.gov.bd/upload_file/gazettes/207-Law-1998.pdf
(১-৭ পাতা, পিডিএফ ফাইল। লিংক হতে হোমিওপ্যাথি বিষয়ক সরকারী গেজেট প্রজ্ঞাপন পড়া-জানার জন্য দেখা যাবে, ডাউনলোড করা যাবে)

[এছাড়া সরকারী “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন-২০১৮ (প্রস্তাবিত)” অনুযায়ী শুধু (১) বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড (BHB) ও (২) বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল (BHMC) হবে। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল সরকার অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ডি.এইচ.এম.এস (হোমিওপ্যাথি) ও বি.এইচ.এম.এস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকৃতদের শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দিবে। DHMS ও BHMS পাসকৃতরা শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশায় নামের অগ্রভাগে “ডাঃ” (ডাক্তার) পদবী লিখতে পারবেন।
সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি ডিগ্রী DHMS, BHMS কোর্সে পাসকৃত ব্যতিত/ছাড়া অন্য কোন হোমিওপ্যাথি বিষয়ক প্যারামেডিক্যাল বা পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ বা সর্ট কোর্স ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশার রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাবেনা এব্য “ডাঃ” পদবী লিখতে পারবেনা। এ বিষয়ে হোমিওপ্যাথি আইনে বিধি-নিষেধ ও বিভিন্ন ধরনের দন্ডের বিধান সংযোজিত হয়েছে।

অনেকে না জেনে ভ্রান্তধারনা, বলে বাংলাদেশেে BM & DC অনুযায়ী শুধুমাত্র MBBS ও BDS ছাড়া কেহ “ডাঃ” লিখতে পারবেনা?

লক্ষ্য করুন ও জানুনঃ

হোমিওপ্যাথিদের নিয়ন্ত্রণ ও রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান করার আইনগত ক্ষমতা BM & DC কে সরকার দিয়েছে কি? সরকার দেয়নি। ফলে BM & DC দেয়না।
ইউনানী ও অায়ুর্বেদিক নিয়ন্ত্রণ ও রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান করার আইনগত ক্ষমতা BM & DC কে সরকার দিয়েছে কি? সরকার দেয়নি। ফলে BM & DC দেয়না।

ফলে এ বিষয়ে অনেকের জানার সীমাবদ্ধতা। ভুল ধারণা পোষণ করে আসছে। ফলে হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক কোর্সকৃতদের সমন্ধে অনেকে অনেক সময় বিভ্রান্তকর ও অসম্মানজনক মন্তব্য করে থাকে। যা কাম্য নয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) শুধুমাত্র এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টাল বিষয়ক পেশাজীবী চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেয়।
আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইন দ্বারা পরিচালিত “বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বি.এম.ডি.সি)” শুধুমাত্র এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টাল বিষয়ক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান।
(BM & DC বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় অাইনে হোমিওপ্যাথি, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক বিষয়ক কর্তৃপক্ষ নয়। হোমিওপ্যাথি, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ও পেশার রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট বিষয়ে আলালা-আলাদা সরকারী আইন ও আলাদা-আলাদা সরকারী অন্য কর্তৃপক্ষ রয়েছে)

অনেকে এ্যালোপ্যাথি LMAF, PC, পল্লী চিকিৎসার বা প্যারামেডিক বা ডেন্টাল বিষয়ে সর্ট ট্রেনিং কোর্স করে “ডাঃ”শব্দ ব্যবহার করে। তাদের বিষয়টি BM & DC অাইনে বুঝিয়েছে। কারণ এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টাল বিষয়ক কোর্সকৃতদের চিকিৎসা পেশার অনুমতি ও রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান করার একমাত্র সরকারী অাইনগত প্রতিষ্ঠান BM & DC ছাড়া অন্য কেহ নয়। ফলে BM & DC নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টাল কোর্সের MBBS, BDS সহ এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টাল বিষয়ক কোন কোন কোর্সকৃতদের পেশার অনুমতি ও “ডাঃ” লেখার অনুমতি এবং রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট দিবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার BM & DC কে সে ক্ষমতা অাইনগতভাবে দিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অাইন ২০১০ করেছে।
(উল্লেখ্যঃ হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ ও পেশার রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট এর জন্য আলাদা-আলাদা হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বিষয়ক সরকারী আইন ও অালাদা-অালাদা সরকারী হোমিওপ্যাথি, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বিষয়ক কর্তৃপক্ষ রয়েছে। কোন মতেই বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন নয় ও BM & DC কর্তৃপক্ষ নয়)

হোমিওপ্যাথি’রা নামের আগে “ডাঃ” লিখতে পারবে?

সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথি DHMS ও BHMS কোর্সে পাসকৃতরা অবশ্যই সরকারী ভাবে চিকিৎসা পেশার অনুমতি পাবে চিকিৎসা পেশার রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাবে এবং অাইনত “ডাঃ” লিখবে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারী আইন দ্বারা রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড। সরকারী হোমিওপ্যাথি অধ্যাদেশ ১৯৮৩ ও প্রবিধান ১৯৮৫ এবং মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ/প্রজ্ঞাপন।
১৯৯৮ সালের সংশোধিত গেজেট আইন ২০৭ এর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী Bangladesh Homoeopathic Practitioners Ordinance, 1983 (Ordi.No. XLI of 1983) হোমিওপ্যাথি’রা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশার আইনগত অধিকার ও DHMS পাসকৃতদের আইনত “ডাঃ” হিসাবে রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান করে আসছে সরকারী গেজেট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আইনগতভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড এর রেজিষ্ট্রার।
BHMS পাসকৃতদের রেজিষ্ট্রেশ সার্টিফিকেট প্রদান করছে আইনগত ক্ষমতা প্রাপ্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নতুন প্রস্তাবিত হোমিওপ্যাথি আইন ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষঃ

সময়ের চাহিদায় নতুন প্রস্তাবিত সরকারী “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন-২০১৮” পাস হলে হোমিওপ্যাথি নিয়ন্ত্রণ করবে এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টালদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান “Bangladesh Medical and Dental Council (BM & DC)” মতো হোমিওপ্যাথিদের নিয়ন্ত্রণের জন্য “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিল (বি.এইচ.এম.সি)”।
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করবেঃ এ্যালোপ্যাথি ও ডেন্টাল ডাক্তারদের পেশাজীবী সংগঠন “Bangladesh Medical Association (BMA)” মতো হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের পেশাজীবী সংগঠন হিসাবে “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল এসোসিয়েশন (BHMA) সহ কয়েকটি হোমিওপ্যাথি সংগঠন।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড।
Website: www.homoeopathicboardbd.org
——————————————————————-

লেখকঃ

ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম (শিপলু)।
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)
(চিকিৎক, শিক্ষক, প্রাক্তন সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

অনুলিপিঃ
সরকার স্বীকৃত ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) পাসকৃতরা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশা ও “ডাঃ” লেখা বিষয়ক, ১৯৯৮ সালের (সূত্রঃ ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮। এস, আর, ও, নং ২০৭ আইন/৯৮) সরকারী প্রজ্ঞাপনের গেজেট কপি।
প্রকাশিতঃ ২৪ সেপ্টেম্বর’ ১৯৯৮।

প্রজ্ঞাপন
১৯৯৮ এর সংশোধিত গেজেট আইন নম্বর ২০৭ দেখুন।
লিংক/Link:
http://www.dpp.gov.bd/upload_file/gazettes/207-Law-1998.pdf