হাজীগঞ্জে তিন সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু

হাজীগঞ্জে শারমিন সুলতানা শান্তা (৩৩) নামে তিন সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ভাড়া বাসা থেকে থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে মর্গে পাঠিয়েছে। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত নিহত গৃহবধূর বাবার পরিবারের কেউ মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেনি। তবে শান্তার স্বামী মানিককে জিঞ্জাসাবাদ করার জন্যে থানায় নিয়ে এসেছে। ঐ নারী স্বামী-সন্তান নিয়ে হাজীগঞ্জ ৫নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গৃহবধূ শান্তা হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন খাটরা বিলওয়াই তালকুদার বাড়ির মানিক হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের স্বামী মানিক হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে এক কক্ষে স্ত্রী ও ছোট মেয়ে, অপর কক্ষে বড় ও মেঝো মেয়ে অপর আরেকটি কক্ষে আমি ঘুমাই। সকালে তিনিসহ মেয়েরা ঘুম থেকে উঠেন। বড় মেয়ে তার মাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি না উঠায় মেয়ে বিষয়টি আমাকে জানায়। তারপর আমি নিজে গিয়ে দেখি স্ত্রী মৃত অবস্থায় খাটের উপর পড়ে আছে। এ সময় তার শরীর ঠাণ্ডা ও শক্ত হয়ে থাকতে দেখি।

তিনি আরো বলেন, জানি না কীভাবে তার (স্ত্রী) মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি ধারণা করেন, হার্ট-এ্যাটাক বা স্বাভাবিকভাবে এ মৃত্যু হতে পারে। তবে আমার শ্বশুর পক্ষের একজন আত্মীয়ের সাথে আমার মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। সে এ মৃত্যুকে ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসেন। নিহতের স্বামী মানিক হোসেনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে সুরতহালে লাশের শরীরে কোনো ধরনের দাগ দেখা যায়নি।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন রনি বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে বিষয়টি পরিস্কারভাবে জানা যাবে। তবে ঐ নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করলে আমরা তাকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা প্রদান করবো।