হাজীগঞ্জে একের পর এক ভূয়া চিকিৎসকের সন্ধান

হাজীগঞ্জ ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে সয়লাব হয়ে আছে এমনটাই ধারণা করছেন অনেকে। সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও মধ্য বাজারস্থ ইসলামিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই ভুয়া চিকিৎসককে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। গত মঙ্গলবার হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ রামগঞ্জ সড়কে নিউ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজার নিজেই চক্ষু চিকিৎসক সেজে রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে পুলিশের জালে আটক হয়ে জেল হাজতে যান। আর এসব থেকে স্থানীয়ভাবে অনেককে বলতে শুনা যায় হয়তো আরো ভুয়া চিকিৎসক হাজীগঞ্জে রয়েছে। হাজীগঞ্জ বাজারের প্রায় ১৭টি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ দিলে ভুয়া চিকিৎসক রোধ করা সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের অভ্যন্তরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৭টি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে চিকিৎসকদের মালিকানাধীন। অন্যদিকে শুধু ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে বেশ কয়েকটি। হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে আবাসিক চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অতিথি চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাজার বসে শুক্রবার। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে ২/১ জন ভুয়া চিকিৎসক থাকলেও তা বের করা মুশকিল, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরা সচেতন হলে ভুয়া চিকিৎসক সনাক্তকরণ আর আইনের হাতে তুলে দেয়া অনেক সহজ বলে বিশিষ্টজনরা চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান।

জানা যায়, সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের রোগীর চাহিদার কথা মাথায় রেখে একজন চর্ম-যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া করে। এরই মধ্যে জনৈক হ্যান্ডসাম ব্যক্তি নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দাবি করে এখানে চেম্বার করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে ও হাসপাতালে আসে। এরই মধ্যে কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পর সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সন্দেহ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এর পরেই এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিলে পুলিশের কাছে সে অকপটে সব স্বীকার করে বলে যে, সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নয় বরং একজন ভুয়া চিকিৎসক।

অপরদিকে এ ঘটনার মাত্র কয়েকদিন পরেই ফের চর্ম-যৌন রোগের ভুয়া চিকিৎসক আটক হয় হাজীগঞ্জ ইসলামিয়া হাসপাতালে। এই দুটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধরিয়ে দেয় তাদের তথাকথিত ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার হাজীগঞ্জ থানার একজন পুলিশ সদস্যকে রোগী সাজিয়ে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ রামগঞ্জ সড়কের নিউ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে পাঠান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন। ওই পুলিশ সদস্যের যে চোখে সমস্যা নেই সেই চোখে সমস্যা আছে বলে জানান কথিত সেই চিকিৎসক। হাসপাতালের বাইরে সাদা পোশাকে অপেক্ষমান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন তার সেই পুলিশ সদস্যের মেসেজ পেয়ে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে ইমন চৌধুরী (৫০) নামের কথিত চিকিৎসককে আটক করেন। আটকের পরে ইমন নিজেকে এসএসসি পাস দাবি করলেও এর সপক্ষে কোনো সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি। ইমন চৌধুরী ঐ হাসপাতালে ম্যানেজার পদে চাকুরি করলেও এখানে তিনি চক্ষু চিকিৎসক হয়ে উঠেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ নিউ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সেই ভুয়া চক্ষু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করে জেল হাজতে পাঠান।

ভুয়া চিকিৎসকের বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা বেসরকারি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি আহসান হাবীব অরুন বলেন, আমরা সকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলে দিয়েছি চিকিৎসা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট পরীক্ষা করা ছাড়া কোনো চিকিৎসক যাতে হাসপাতালগুলোতে নিয়োগ দেয়া না হয়। এ বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ইতিমধ্যে যেসব চিকিৎসক ভুয়া বলে আমাদের কাছে ধরা পড়েছে আমরা তাদেরকে পুলিশে তুলে দিয়েছি। অনেক চিকিৎসকের কাগজপত্র চাইতে গেলে তারা নিজেরা অপমান বোধ করেন বলে আমাদের জানান।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল আজিম জানান, ভুয়া চিকিৎসক প্রতীয়মান হয় এমন কিছু বিষয়ে কারো সন্দেহ হলে গোপনে বা প্রকাশ্যে আমাদের জানালে আমরা বিষয়টি তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যে আমি বেসরকারি সকল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলে দিয়েছি চিকিৎসক নিয়োগের সময় বা যারা কাজ করছেন বা কারো উপর সন্দেহ হলে তাদের পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে নিতে হবে। তাতেও সমস্যা হলে আমাদের শরণাপন্ন হলে আমরা দেখে দেবো।

ভুয়া চক্ষু চিকিৎসক আটকের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন বলেন, ইমন চৌধুরী নামের আটক হওয়া ব্যক্তি নিউ লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজার। একই ব্যক্তি ঐ হাসপাতালের চিকিৎসক এমন ভিজিটিং কার্ড তার কাছে পাওয়া গেছে। ঐ হাসপাতালে মূল চিকিৎসকের অনপুস্থিতিতে আটককৃত ব্যক্তি নিজেই চিকিৎসক হয়ে রোগী দেখতেন। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ভুয়া চিকিৎসকের বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি।