হাজীগঞ্জে আগুনে পুড়িয়ে গৃহবধূকে হত্যা স্বামী-শাশুড়িসহ আটক-৩

রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ: চারদিন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পরে অবশেষে গৃহবধূ দিপিকা আশ্চার্য্য মনিকা ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় পরোলোক গমণ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানা অফিসার ইনর্চাজ মো. আলমগীর হোসেন রনি গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শরীরের প্রায় ৯২ শতাংশ জ্বলসে গেছে। মৃত্যুর কাছাকাছি থাকা এই গৃহবধূ চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ ও ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্যরে কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে তার স্বামী, শ্বাশুড়ি ও ভাসুরকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর দেয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে পাষান্ড স্বামী ও তার পরিবারের নির্মমতার চিত্র। স্বামী বিপুল আশ্চার্য্যের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে শরীরের শতকরা ৯২ ভাগ অংশ। আগুনে জ্বলসানো গৃহবধূ হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আশ্চার্যের ছেলে বিপুল আশ্চার্য্য স্ত্রী দিপিকা আশ্চার্য্য মনিকা। দশ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তার বাবার বাড়ী নরসিংদী জেলার ছোট মাধবদী উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিন বছরের শিশু কন্যা রয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে অগ্নিকা-ে মৃত্যুশয্যা গৃহবধুর বড় ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য। অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্বামী বিপুল আশ্চার্য্য ও ভাসুর সজল আশ্চার্য্য কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে মনিকাকে হত্যার চেষ্টা করে। নিছক এই ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দুর্ঘটনা বলে প্রচার করা হয়। দুর্ঘটনার পর মনিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটি ভর্তি করানো হয়। হাজীগঞ্জ থানার মামলার সূত্রে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ডের বকুলতলা রোডের রঞ্জিত আশ্চার্যের ছেলে বিপুল আশ্চার্য্য ও তার বড় ভাই সজল আশ্চার্য্য। গত ৩০ এপ্রিল গভীর রাতে বিপুল আশ্চার্যের স্ত্রী দিপিকা আশ্চার্য্য (মনিকা) কে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টিকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে রাতেই দিপিকাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখান থেকেই ওই দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটি ভর্তি করা হয়। দপিকার শরীরের ৯২ শতাংশই পুড়ে গেছে বলে জানান দিপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য। মোবাইল ফোনে বোনের দুর্ঘটনার খবর শুনে দিপিকার বড় ভাই অরবিন্দ আশ্চার্য্য ঢাকা মেডিকেল বার্ণ ইউনিটে তার বোনকে দেখতে গেলে ভাইকে দিপিকা জানান, তাকে মারধর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার করা হয়। এর পরই তার ভাই বৃহস্পতিবার দুপরে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। গৃহবধূ দিপিকাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার ছোট মাধবদী উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে। পারিবারিকভাবে ১০ বছর আগে বিপুলের সাথে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৩ বছর বয়সি একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিপুল মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে তাদের পরিবারে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো বলে জানাযায়।

দিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগির হোসেন রনি। দিপিকার বড় ভাই মুঠোফোনে জানায়, বিপুল আমার বোনকে শরীরে আগুন লাগানোর আগে তাকে মেরে ফেলার জন্য মারধর করেছে। তার মাথা ও কপাল ফেটে গেছে। বিপুল, সজল, তাদের মা সন্ধ্যা রাণী আশ্চায্য, সজলের স্ত্রী দিপা আশ্চার্য্য মিলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তিনি জানান, দিপিকার গায়ে আগুন দিয়ে বিপুল সজল, তার মা ও তার ভাবী দিপাকে খবর দিয়ে তাদের বাসায় আনে। পরবর্তীতে রাতে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি আরো জানান যে রুমে দিপিকাকে নির্যাতন করা হয়েছে ওই রুমের দেয়ালের সাথে রক্তের দাগ রয়েছে। অরবিন্দ আশ্চার্য্য আরো জানান, ঘটনার পর থেকে আমার সাড়ে ৩ বছরের ভাগনীকে নিয়ে দিপা পলাতক রয়েছে। কি জন্য আগুন দেয়া হত্যার চেষ্টার করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে অরবিন্দ জানান, সজল ও বিপুলদের অনেক টাকা মূল্যের একটি জায়গা আছে। কয়েক মাস যাবৎ ওই জায়গা বিক্রয়ের চেষ্টা করে আসছে সজল ও বিপুল। আমার বোন দিপিকা ওই জায়গা বিক্রয়ের বাধা দিয়ে আসছিল। এছাড়াও তাদের পারিবারিক কলহ ছিল দীর্ঘ দিনের। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগির হোসেন রনি জানান, দিপিকার শরীর ৯৯ শতাংশই পুড়ে গেছে। মৃত্যুর পূর্ববর্তী সময়ের জবানবন্দী নেয়ার জন্য হাজীগঞ্জ থানার এসআই সঞ্জয় ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছে। সেখান থেকে দিপিকার ভাই অরবিন্দ আশ্চার্যের উপস্থিতিতে মৃত্যু পূর্ববর্তী সময়ের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। বক্তব্যে দিপিকাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান দিপিকা। তিনি জানান, বিপুলের বড় ভাই সজলকে হাজীগঞ্জ থেকে আটক করা হয়েছে আর বিপুল ও তার মা সন্ধ্যা রানী আশ্চার্য্যকে ঢাকা মেডিকেল থেকে আটক করে রাতে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। অপর আসামী সজলের স্ত্রী দিপা আশ্চার্য্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।