সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রসা খোলা রেখে পাঠদান!

                                        ফরিদগঞ্জে জামায়াত নেতার এমন দৃষ্টতা দেখানোর উদ্দেশ্য কি ?

বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারি ছুটির নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফরিদগঞ্জের লতিফগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসা খোলা রেখে যথারিতি পাঠদান হয়েছে। এঘটনায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষাথীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাও. আবদুল মান্নান এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নির্দেশে (২৯ এপ্রিল) রোববার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্লাশে আসতে বাধ্য হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকারি ছুটির তোয়াক্কা না করে অধ্যক্ষের এমন দৃষ্টতা দেখে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে উক্ত বিষয়টি জেনো ফাঁস না হয় সেজন্যে মাদ্রাসার পক্ষে একটি মহল প্রলোভন দেখিয়ে জোরালোভাবে তদবির চালাচ্ছে।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, ফরিদগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল লতিফগঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসায় সরকারি ছুটির ঘোষনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অধ্যক্ষের নির্দেশে এই মাদ্রাসা খোলা রাখা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে দেখা যায়। এ দিন ওই মাদ্রাসার ২৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ২১ জন শিক্ষক উপস্থিত থাকতে বাধ্য হলেও ক’জন হাজিরা খাতায় সই দেয়নি। তবে ক’জন শিক্ষক হাজিরা খাতায় সই স্বাক্ষর দিলেও সাংবাদিকের উপস্থিতি জেনে তা মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন শিক্ষক এ প্রতিনিধিকে জানায়, আজ সরকারি ছুটি থাকলেও অধ্যক্ষের নির্দেশে আমাদের মাদ্রাসায় আসা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না। গত শনিবার উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল মান্নানের বরাত দিয়ে পিয়ন গোলাম হোসেন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বলেন, রোববার মাদ্রাসা খোলা থাকবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল মান্নান বলেন, আজ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটি এটা জানি। তবে এ মাদ্রাসায় কোন বৌদ্ধ নেই। শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করে আজ মাদ্রাসা খোলা রাখা হয়েছে মাত্র।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ৬নং গুপ্টি ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ইলিয়াছ বেগ মুঠফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মূলত জামায়াতের সাবেক নেতা। তবে সরকারি ঘোষনার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তা খোলা রাখার বিষয়টি জেনে হতবাক হয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান এ প্রতিনিধকে বলেন, সরকারি ছুটির দিনে মাদ্রাসা খোলা রেখে পাঠদানের বিষয়টির খোঁজ নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে ফরিদগঞ্জের এমপি ড. শামছুল হক ভুঁইয়া উক্ত মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের সাবেক নেতা আবদুল মান্নানের এমন দৃষ্টতার বিষয়টি জেনে সবাই হতবাক হয়েছে।