শিক্ষিকা খুনের ঘটনা রহস্যাবৃত

ছুটি নেয়ার বিষয়টি স্বামীকে না জানানোর রহস্য কী?

চাঁদপুর শহরের ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী ২০ জুলাই শনিবার তার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে দরখাস্ত করে ২১ জুলাই রোববার ছুটি নিয়েছেন। ওই দরখাস্তে তিনি ছুটির কারণ হিসেবে পারিবারিক কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। তাই তিনি রোববার স্কুলে যান নি। এদিন সকালে তিনি তার স্বামী ও ছোট মেয়ে তন্বীকে বিদায় দেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। আর এদিনই জয়ন্তী চক্রবর্তী খুন হন নিজ বাসায়। তখন তিনি বাসায় একাই ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, জয়ন্তী চক্রবর্তী এদিন স্কুল থেকে ছুটি নিলেন, এটি কেনো তার স্বামী জানবেন না। রোববার যে জয়ন্তী চক্রবর্তী স্কুলে যাবেন না, ছুটি নিয়েছেন, এটি স্বামীকে না জানানোর রহস্য কী_এ প্রশ্নটি এখন হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটনে একটি ক্লু হিসেবে দেখা দিয়েছে। আর স্ত্রীর এদিন স্কুল থেকে ছুটি নেয়ার বিষয়টি যে স্বামী অলোক গোস্বামী জানেন না তা তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন। ছুটি নেয়ার বিষয়টি স্বামীকে না জানানোর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

খুনি কি তাহলে পরিচিত কেউ?

চাঁদপুর শহরে নিজ বাসায় স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী যখন খুন হয়েছেন তখন তিনি বাসায় একাই ছিলেন। অর্থাৎ তার স্বামী, সন্তানদের কেউই সেদিন বাসায় ছিলো না। তাহলে খুনি বাসায় ঢুকলেন কীভাবে? বাসার দরজা-জানালা সবই ঠিক আছে। খুনি কোনো দরজা ভেঙ্গেও ঢুকেনি বা জানালা ভেঙ্গেও ঢুকেনি। বুঝা যাচ্ছে শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী নিজেই বাসায় ঢুকিয়েছেন ওই খুনিকে। আর সে হয়তো তার পূর্ব পরিচিত ছিলেন। এবার সে যেই হোক। আর পরিচিত কথাটি এজন্যে চলে আসে যে, ঘটনার দিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে তিনি তার স্বামী ও ছোট মেয়েকে ঢাকা যাওয়ার জন্যে বিদায় দেন। স্বামী অলোক গোস্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী তার স্ত্রী তাদেরকে বিদায় দিতে বাসার নীচে গেট পর্যন্ত আসেন, পরে উপরে চলে যান। আর উপরে গিয়ে নিশ্চয়ই তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। ঈগল-৩ লঞ্চে ওঠে পৌনে নয়টার দিকে স্বামী অলোক গোস্বামী তার স্ত্রীকে ফোন দিয়েও জানিয়েছেন যে তারা লঞ্চে উঠেছেন। এরপর আর তাদের মধ্যে কথা হয়নি। এসব বিবরণে অনেকেই বলছেন, খুনি কি তাহলে পরিচিত কেউ?