শাহরাস্তিতে ইটভাটায় হামলা ভাংচুর ও লুটপাট। আহত-২

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতের আঁধারে ইটভাটায় হামলা ভাংচুর ও অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ২ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলো, উপজেলার নিজমেহার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র খোরশেদ আলম (৩০) ও সূচীপাড়া গ্রামের মৃত আক্তার হোসেন খোকনের পুত্র সোহাগ হোসেন (২৪)। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি ১৪ জানুয়ারি বুধবার রাত ১১ টায় উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ভাই ভাই ব্রিকফিল্ডে ঘটে। জানা যায়, ওই দিন রাতের অন্ধকারে একদল যুবক ভাই ভাই ব্রিকফিল্ডে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয় এবং অফিস কক্ষ ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে ইটভাটা মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনার ১০ মিনিট আগে রাতের খাবার শেষে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে এরই মধ্যে ঘটে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা। দূর থেকে আমি হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে চিনতে পারি। তাদের মধ্যে আমার আপন ভাই মিজানুর রহমান (৫৬) ও তার পুত্র ইমতিয়াজ হায়দার রনি (২২), বসুপাড়া গ্রামের ছফিউল্যাহর পুত্র ইয়াসিন (৩৫) ও ভাড়াটে দু্র্বৃত্ত নাসির ৭/৮ জনকে দেখতে পাই। এসময় তারা স্টীলের লকার ভেঙ্গে তাতে রাখা ৪ লক্ষ টাকা লুট ও বিভিন্ন আসবাব পত্র ভাংচুর এবং অফিসে ঘুমিয়ে থাকা ফিল্ডের স্টাফ খোরশেদ আলম ও সোহাগ হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে। তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারিরা দুটি সিএনজি চালিত অটোরিকসা যোগে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় আমি অফিসে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। ইটভাটার ম্যানেজার প্রেমানন্দ দে জানান, হামলাকারিরা অফিস কক্ষে ভাটার মালিক আলমগীর হোসেনকে না পেয়ে অফিসে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তারা এসময় ৪ লক্ষ টাকা ছাড়াও ভাটার মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়। ইটভাটার কর্মচারী খোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার সময় আমিও অপর আহত ব্যক্তি সোহাগ অফিস কক্ষে ঘমিয়ে ছিলাম। দরজার গ্লাস ভাংগার শব্দে ঘুম থেকে জাগি। কিছু বুঝে উঠার আগেই রনি তার হাতে থাকা ধারালো অস্র দিয়ে আমাকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। আমি রক্তাক্ত অবস্থা অফিসের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ি। এসময় তারা ষ্টীলের আলমীরার দরজা ও ভিতরের লকার ভেঙ্গে টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের ভাইদের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা কর্মচারী। আমাদের এভাবে মেরে আহত কেন করবে। আমরা কি অপরাধ করেছি। এঘটনার উপযুক্ত বিচার প্রার্থনা করে সে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত বসুপাড়া গ্রামের ছফিউল্যাহর পুত্র ইয়াসিনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। মিজান এবং তার পুত্র রনি পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।