লড়াইরচরে পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় নিয়ে ধুম্রজাল

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইন নির্মানে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিভাবে পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংযোগ ফি ন্যূনতম হলেও সে নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি চক্র মাত্রাতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার বিরামপুর বাজারের দক্ষিণ দিকে চাঁন গাজী বাড়ি, মাদ্রাসা মিজি বাড়ি, হাবিব গপের বাড়ি, আলিম পাটওয়ারী বাড়ি, মমতাজ পাটওয়ারী বাড়ি, কোব্বাত আলী দেওয়ান বাড়িতে নতুন সংযোগ প্রদানের জন্য প্রতি মিটার বাবদ ১৫ হাজার হতে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে এলাকার কতিপয় চিহ্নিত দালাল। এনিয়ে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে। মাদ্রাসা মিজি বাড়ির গ্রাহক আব্দুল মালেক, আবুল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, ইকবাল ও আরিফ সাংবাদিকদের জানান, আমাদের বাড়িতে ১৩ জন নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আরো ৫ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে আবু তাহের আমাদের কাছে দাবী করেছে।
এদিকে আবু তাহের গংরা বিদ্যুতের নতুন সংযোগ প্রদানের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উপজেলা অওয়ামী ওলামা লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবী করা হাচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মাও. মোশারফ হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, লড়াইচর গ্রামের বিদ্যুতবিহীন বাড়িতে বিদ্যুৎ প্রদানের জন্য আমি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করি। ওই আবেদনপত্রে স্থানীয় এমপি ড. শামছুল হক ভূঁইয়া আমাকে আধা সরকারি পত্র (ডিও) প্রদান করে। ডিও পাওয়ার পরে জনস্বার্থে নিজের পকেটের অর্থ খরচ করে এলাকাতে বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে আসি। পরক্ষনে ওই এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হুদা, আবুল কাসেম মাষ্টার ও আবু তাহের প্রভাব খাটিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৪/১৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়। কিন্তু উল্ল্যেখিত ব্যক্তিরা আমি বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের নামে অর্থ আদায় করেছি মর্মে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এসর্ম্পকে আবু তাহের মিঝি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি শুধুমাত্র ১৫ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ৩/৪ হাজার টাকা করে নিয়েছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রাহকের বিদ্যুতের লাইনের কাজ সর্ম্পন্ন হবে বলে আমি আশাবাদী। অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি মাও. মোশারফ হোসেনের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মাও. মোশারফ হোসেন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আমার উপরে দোষ চাপাচ্ছে।
সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হুদা তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য কোন গ্রাহকের কাছ থেকে এক টাকা ও নেইনি।
আবুল কাসেম মাষ্টার এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘এমপি সাহেবের নির্দেশে আমি এলাকাতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানে জন্য কাজ করেছি। তবে আমি অতিরিক্ত কোন অর্থ উত্তোলন করিনি।’
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোখলেছুর রহমান এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘সরকারিভাবে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ফি মিটার প্রতি আবাসিক ৪৫০ টাকা এবং এবং বাণিজ্যিক ৮৫০ টাকা নির্ধারিত। সংযোগ পেতে এর বেশি অর্থ প্রদান করার প্রয়োজন নেই।’
অপরএক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ অতিরিক্ত অর্থ আদায় নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। এছাড়া দালাল থেকে বিরত থাকার জন্যে এলাকাতে মাইকিং ও পোস্টারিং করেছি।’