রিয়া ও লৌকিকতা মুক্ত ইবাদতের জন্য তরীকা, তাসাউফ চর্চা করতে হবে -ছারছীনার পীর ছাহেব।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মান্তরিত করার ব্যাপারে ছারছীনা দরবারের সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ নেই
– এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম

মোঃ আবদুর রহমান ও কাজী রাকিব ছারছীনা থেকে ঃ আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের হযরত পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মা.জি.আ.) বলেছেন- আমরা নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ্ব সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগী করে থাকি। এ সমস্ত ইবাদতে শয়তান আমাদের ওয়াস ওয়াসা দেয়। যা আমাদের ইবাদতকে বিনষ্ট করে মনোযোগ অন্যদিকে ধাবিত করে। শয়তানের ওয়াসওয়াসা মুক্ত ইবাদত করার জন্য প্রত্যেক মুসলমানের উচিত তরিকা-তাসাউফের চর্চা করা। জিকির-আজকার, তাসবীহ-তাহলীল, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরীফ ও নফল ইবাদতে মশগুল থাকাই হলো তরীকা তাসাউফ। পাশাপাশি হালাল ভক্ষণ ও হারাম বর্জন, পর্দা পালন ইত্যাদি শিক্ষা দেয় তরীকা। আর এই তরীকা তাসাউফ শিক্ষার জন্যই হক্কানী পীরের সোহবতে যেতে হয়। যারা পীর-মুরীদকে শিরক বলে গলা ফাটাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে পীর ছাহেব কেবলা বলেন, তাহলে বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী, হযরত শাহজালাল, হযরত শাহ পরান (রহঃ) সহ অন্যান্য আওলিয়ায়ে কেরামগণও কি মুশরিক ছিলেন? এসব কথা বলে সরলমনা মানুষের ঈমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলে যারা তারাই ইসলাম ও মুসলমানের দুশমন। এদের থেকে আমাদের সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- ঈমান-আকীদা মজবুত রাখার জন্য দ্বীনিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ কথা শুধু মুখে বললেই হবে না বরং সন্তানকে দ্বীনিয়া মাদরাসায় ভর্তি করে, অর্থ দিয়ে ও জায়গা দিয়ে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের খেদমতে পীরভাই, মুহিব্বিনদের এগিয়ে আসতে হবে।
পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- সকল ক্ষমতার একমাত্র মালিক আল্লাহ। এই ক্ষমতা দ্বীনের খেদমতে ব্যবহার করা মুসলমানদের কর্তব্য। ছারছীনা দরবার দলীয় রাজনীতি করেনা। কিন্তু যারা ইসলামকে ভালোবাসে, দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে এ দরবার তাদের সফলতার আল্লাহর কাছে সর্বদা দোয়া করে।
মাহফিলের দ্বিতীয় দিন বিশেষ মেহমান ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী এডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম এমপি।
আরও উপস্থিত ছিলেন- আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম. এম. এনামুল হক, বঅংলাদেশ জমইয়তে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ, পিরোজপুরের সার্কেল এস. পি. শাহনেওয়াজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ব্যরিষ্টার এ. বি. এম সিদ্দিকুর রহমান, নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে. এম. তারিকুল ইসলাম, স্বরূপকাঠী পৌর মেয়র জি. এম. কবির প্রমূখ।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন- আমি এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের একজন খাদেম। ছারছীনা দরবার একটি হক দরবার। এ দরবার কোন সময়েই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মানুষকে ধর্মান্তরিত করেছে দেড়শ বছরের ইতিহাসে এ ধরণের কোন প্রমাণ নেই। আমি সকলের অধিকারে বিশ্বাসী। এটা ইসলামেরও নির্দেশিকা। কিন্তু মুসলমান হিসেবে দ্বীন-ইসলামের খেদমত করা একান্ত কর্তব্য। তিনি ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বঙ্গবন্ধু মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকার ইসলাম বান্ধব সরকার। অতএব ইসলামের বিরুদ্ধে এ সরকার কখনো অবস্থান নিবেনা এবং যারা আলেম-ওলামা ও ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলবে তাদেরকেও আমরা প্রশ্রয় দিবো না।
তিনি মাহফিলে আগত সকলের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন- এ দরবারের মরহুম পীর মাওলানা আবু জাফর ছালেহ (রহঃ) কে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হয়রানী করনা হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নির্দেশে তার নির্ধারীত সকল অভিযোগ তুলে নিয়ে সসম্মানে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন এ দরবারের খেদমতে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
মাহফিলের দ্বিতীয় দিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীর উপর আলোচনা করেন- মাওঃ মাহমুদুম মুনীর হামীম, মাওঃ সিরাজুম মুনীর তাওহীদ, মাওঃ আবদুল গফ্ফার কাসেমী, মাওঃ কাজী মফিজ উদ্দিন, মাওঃ মোঃ বদরুজ্জামান রিয়াদ, মাওঃ মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ
আজ বাদ জোহর আখেরী মুনাজাত।
দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করবেন।