রামপুরে দু’ রাস্তার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী ॥ বিপাকে কোমলমতী শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের আলগী পোলের গোড়া (স্বাধীন বাংলা বাজার) বাজার থেকে আলগী পকিস্তান বাজার ও ৪৯ নং সকদি পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের শেষ সীমানা রেল লাইন পর্যন্ত এ দু’টি রাস্তা বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। এ দুটি রাস্তা দীর্ঘ কয়েক বছর পুর্বে পাকা করন করা হলেও পরবর্তীতে নতুন করে সংস্কার না করায় রাস্তা দিয়ে চালাচল করা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দু’টি রাস্তা দিয়েই ভয়ে যানবাহনে চলাচল করতে চায়না। রাস্তা দিয়ে হেটে যেতেই মানুষের কষ্ট হয়। দুটি রাস্তার প্রায় ৪ কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রায় কয়েক হাজার এলাকবাসী। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কার না করা ও বড় বড় নিষিদ্ধ ট্রাক্টর (ট্রাক) বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চলাচল করায় এ রাস্তগুলোর বেহাল দশা হয়েছে বলেই এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন।
এ দুটি রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন ছোট সুন্দর আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ছোটসুন্দর আল-আমিন ছিদ্দীকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, পল্লী শিশু একাডেমী, সানফ্লাওয়ার কিন্ডার গার্টেন, সানরাইজ কিন্ডার গার্টেন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এ সময় দুই তিনজন শিক্ষার্থী একসাথে হাটলেই রাস্তার বালু উড়ে গিয়ে তাদের পোষাক ধুলা বালুয়ে নষ্ট হয়ে যায় এবং বৃষ্টির সময় কাদা মাটি দিয়ে হটতে গিয়েও পরছে বিপাকে। কিন্ডার গার্টেনগুলোর শিশু শিক্ষার্থীরা ভ্যানে বা সিএনজিতে করে আসা যাওয়া করতেও মারাত্বক ঝুঁকিতে পরতে হয়। এমনকি রাস্তা ভাঙ্গাচোরা হওয়ায় অনেকেই পা পচকে পড়ে গিয়ে মারাত্বক আঘাত পেয়েছে বলেও এলাকাবাসী থেকে জানাযায়।
এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাস্তার এমন বেহাল দশার দৃশ্য তুলে ধরে বিভিন্ন মতামত ও কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেলেও এ যেন কোন গুরুত্বই দিচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি রাস্তারই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় রাস্তার কংকর গুলোও নেই। আর এইসব স্থানগুলোতে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। এসব রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে গিয়ে প্রায় পা পচকে বা যানবাহন থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্বক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় এলাকার কিছু যুব সমাজ নিজ উদ্যোগে রাস্তায় পানি দিয়ে ধুলা বালু থেকে পথ যাত্রীদেরকে রক্ষা করার চেষ্ঠা করে। সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের কিছু অংশের এলাকাবাসীর (৪৯ নং সকদি পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের শেষ সীমানা রেল লাইন পর্যন্ত) এই একটি মাত্র পথ হওয়ায় মানুষের চলাচল করতে অনেক কষ্ঠ হচ্ছে। আর অপরদিকে দক্ষিণ আলগী ও সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের কিছু অংশের এলাকাবাসীর আলগী পোলের গোড়া (স্বাধীন বাংলা বাজার) বাজার থেকে আলগী পকিস্তান বাজারের এ পথটি ছাড়াও বিকল্প পথ বগার গুদারা হয়ে ছোট সুন্দরের রাস্তাটি থাকলেও তাও একেবারেই নাজুক। সে রাস্তাটিও বহু বছর পূর্বে পাকা করার পর থেকে আর কোন সংস্কার না করায় সে রাস্তাটিও ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছে। সেখান দিয়েও যাতায়াত করতে মানুষের কষ্ঠ হচ্ছে।
এলাকাবাসী অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ রাস্তাগুলো দীর্ঘ কয়েক বছর আগে বছর আগে পাকা করার পর থেকে এ পর্যন্ত আর কোন সংস্কার করা হয়নি তাই রাস্তাগুলোতে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। এছড়াও এ রাস্তুগুলো দিয়ে প্রতিনিয়তই বড় বড় ট্রাক চলাচল করে। এ সমস্ত ট্রাকে করে ইট বালু সহ বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়া করার কারনেও রাস্তাগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমাদের এলাকায় রোধ হলেও সমস্যা আবার বৃষ্টি হলেও সমস্যা। কয়েকদিন খরা (রোদ) থাকলে বালুর জন্য রাস্তা দিয়ে হাটা যায়না। আবার একটু বৃষ্টি হলেই পেঁক কাদায়ও হাটা যায়না। আমরা সবময়ই এ সমস্ত দূর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। দেশে এতো উন্নতি হচ্ছে কিন্তু আমাদের এ দূর্ভোগ ও দূর্ধষার কথা কেউ যেন বুঝতে চায়না। প্রায় কয়েক হাজার মানুষ এ দুটি গ্রামে বসবাস করে আসছে। অথচ আমাদের কথা কেউ চিন্তাও করেনা। আমরা আশা করছি আমাদের এমপি আমাদের এই এলাকারই মেয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মণি আমাদেরকে এ দুর্ভোগ থেকে অচিরেই রক্ষ করবেন।
সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, রাস্তা পাকা করার পর থেকে এ পর্যন্ত আর কোন সংস্কার না করায় আজ রাস্তার এ বেহাল দশা। ৪৯ নং সকদি পাঁচগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সকদি পাঁচগাঁও গ্রামের শেষ সীমানা রেল লাইন পর্যন্ত সড়ক ভেঙে এমন বেহাল অবস্থা হয়েছে যে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হাঁটাও দায়। এই সড়কটি এই এলাকার একমাত্র সড়ক। তাই এটি সংস্কার করা খুবই জরুরী।
একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার এ দুটি সড়কই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কগুলোতে খানাখন্দে বেহাল হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সহ এলাকাবাসী আসা যাওয়া করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। খারাপ রাস্তার কারণে আমরা যানবাহন নিয়ে বাড়ি ঘরে আসা যাওয়া করতে পারছি না। তাই এ রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
আলগী গ্রামের মির্জা সাদ্দাম জানান, আমি নিজ উদ্যোগে প্রায় সময় বন্ধু বান্ধবদেরকে নিয়ে রাস্তায় পানি দিয়েছি। যাতে করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা ধুলা বালু থেকে রক্ষা পায়। এ ধুলা বালুর কারনে অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে।
ইউপি সদস্য বিশু মজুমদার জানান, রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষের চলাচল করতে কষ্ঠ হচ্ছে তা জানি। দুটি রাস্তাই সংস্কার কাজের জন্য প্রাক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত রাস্তাগুলো মেরামতের কাজ করা হবে।
এলাকাবাসী স্থানীয় সাংসদ শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মণি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যাতে করে দ্রুত এ রাস্তা গুলো মেরামত করে এলাকাবাসীকে সীমহীন দূর্ভোগ থেকে রক্ষা করে।