রাজা মিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল

আওয়ামী পরিবারের সদস্য রাজা মিয়া এমপি স্যার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভালো মানুষ ছিলেন
————–সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি
মো. শিমুল হাছান:
ফরিদগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম রাজা মিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ জানুয়ারি-২০১৯ থ্রি.) সকালে রাজা মিয়া ফাউন্ডেশন দায়চারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উক্ত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। সভাটি একপর্যায়ে বিশাল জনসভায় রুপনেয়। সভায় দলীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী-সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি। তিনি মরহুম রাজা মিয়া এমপির স্মৃতিচারণ করে বলেন, আওয়ামী পরিবারের সদস্য রাজা মিয়া এমপি স্যার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ভালো মানুষ ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা এই আসনে আমাকে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্ত, আমি তখন নেত্রীকে বলেছিলাম, নেত্রী আমাদের এলাকার অত্যন্ত সম্মানিয় একজন মানুষ রাজা মিয়া স্যারকে নমিনেশন দিলে সবচাইতে ভালো হবে। নেত্রী তখন আমাকে বলেন, রাজা মিয়া স্যারকে ঢাকায় নিয়ে আসো। আমি বাড়িতে এসে স্যারকে ঢাকায় নিয়ে যাই। নেত্রীর বাসায় গিয়ে খবর পাঠালে নেত্রী নিজে এগিয়ে এসে স্যারকে বাসার ভিতরে নিয়ে যান এবং চেয়ারে বসতে দিয়ে বললেন, স্যার আপনারা আওয়ামী পরিবারের সদস্য, সারা জীবন আওয়ামী লীগ করেছেন। আমি এসেছি, আমাকে একটু সাহাযোগীতা করতে হবে। আপনাকে ফরিদগঞ্জে নমিনেশন দেওয়া হচ্ছে। আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। এই সবকথা শোনার পর স্যারের চোখ দিয়ে তখন পানি ঝরছিলো। সেই নির্বাচনে স্যার জিতেছিলেন কিন্তু, কুখ্যাত রাজাকার মান্নান আর গুন্ডা কালু সেই নির্বাচনের দিন স্যারকে অপমান করে উপজেলা থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তার এক সপ্তাহ পরে স্যার ইন্তেকাল করেন। আমরা স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
নবনির্বাচিত এমপি আরো বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করলেও ফরিদগঞ্জে আমরা জয়লাভ করতে পারিনি। আর কেন পারনি সেটিও আপনারা ভালো করে জানেন। এছাড়া মজার বিষয় হচ্ছে পরববর্তীতে যারা ২০১৩ সালে আমার গাড়ি ভেঙ্গেছে, তারাই আবার আমাকে ফুল দিচ্ছে, সামনের ডায়েসে বসছে। এদের দু’চারজন জুনিয়র ছাড়া সকলের চেহারাই আমি চিনি। গত ১০ বছর তারা কি করেছে আমি তা ভালো করেই জানি। আমাদের নেত্রী কি বলে জানেন, ‘আমি তোমাকে ক্ষমা করলাম, কিন্তু কোনদিন ভুলবো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘দু’চারজনের জন্য সবাইকে অসম্মান করা যাবে না। আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা যাকে তাকে অসম্মান করবেন না। সিনিয়রদেরকে বলবো আপনারা জুনিয়রদের ¯েœহ করবেন, কোলেটেনে নেবেন। কথায় কথায় মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী ইত্যাদি ইত্যাদি বলবেন না। যদি কারো মাদকের সাথে জড়িত থাকার কোন তথ্য থাকে ওসি সাহেবের কাছে বার্তা দিয়ে আসবেন। তিনি মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন সর্ম্পকে তিনি বলেন, জানতে পরেছি আমাদের সাবেক এমপি এলাকার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। যা সর্ম্পন্নরুপে বে-আইনী। আইন হচ্ছে একজন এমপি মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে সভাপতি থাকতে পারবেন। আর বাকিগুলোতে এলাকার গণ্যম্যানদের দিয়ে কমিটি করতে হবে। এছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে সাবেক এমপি তড়িগড়ি করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজের লোকদের বসিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। আমি ইউএনও, শিক্ষা অফিসার ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলেছি এই কমিটিগুলো যেনো অনুমোদন দেওয়া না হয়। আমি আমার সর্ম্পকে বলতে চাই, আমি একটি প্রতিষ্ঠানেরই সভাপতি থাকতে চাই। প্রয়োজনে ২টির বেশি নয়। বাকীগুলোতে প্রতিটি এলাকার সম্মানিত মানুষরা থাকবেন, শিক্ষার উন্নয়ন করবেন।’
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজ সর্ম্পকে তিনি বলেন, আমরা এখন অনেক দেশকে পিছনে পেলে এগিয়ে চলেছি। গত ৮ বছর দেশের জিডিপি ছিলো ৭ভাগের উপরে। শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদশী নেতৃত্বের কারণে দেশে এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তাই সকলের জননেত্রীর জন্য দোয়া করবেন তিনি যেনো আরো বেশি করে দেশ ও জনগনের কল্যানে কাজ করতে পারেন।

রাজা মিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আমির আজম রেজার সভাপতিত্বে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন মিন্টু পাটওয়ারীর পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মো. শাহজাহান কবির, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. হারুন অর রশিদ সাগর, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আবুল কাসেম কন্ট্রাকটার, বীর মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ মো. আব্দুর রব, উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বাবুল পাাটওয়ারী, মো. লোকমান হোসেন তালুকদার, যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক সদস্য মো. মহিউদ্দিন খোকা, জেলা পরিষদের (সংরক্ষিত মহিলা) সদস্য জোবেদা মজুমমদার খুশি, জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান মিটু, আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজকল্যান উপকমিটির সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খাজে আহম্মদ মজুমদার, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সউদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন রতন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলী, ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল পাটওয়ারী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কামান্ডার সহিদ উল্লাহ তপদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা জিএম হাছান তাবাচ্চুম, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জিএস তছলিম, ইউপি চেয়ারম্যান মাও. শরাফাত উল্ল্যাহ, ইউনিয়ন আ’লীগের নেতা জসিম উদ্দিন মিন্টু, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন মিঝি, যুবলীগ নেতা হেলাল উদ্দিন প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।