ম্যাপ জটিলতায় ফরিদগঞ্জ ইসলামপুুর সেতুর কাজে ধীরগতি

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের ইসলামপুর বগার গুদারায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তত্মাবিত ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ সেতুর কাজ বার বার ম্যাপ পরিবর্তন জটিলতায় ধীরগতিতে চলছে। ইতিমধ্যে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিলেও নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সেতুটির নির্মাণ বাবদ ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং দু’পাড়ের জমি অধিগ্রহণে ৬ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেতুর এক পাড়ে চাঁদপুর সদরের রামপুর ইউনিয়নের অংশ। এর অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য ২৭৫ মিটার। অপর পাড়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২নং বালিথুবা ইউনিয়নের অংশ। যার দৈর্ঘ্য ৪শ’ মিটার। সেতুটির কাজ করে দেয়ার টেন্ডার পায় দেশের নামকরা ঠিকাদার মেসার্স নবারুণ ট্রেডার্স।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সেতুর কাজ শুরু হলেও ‘১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি ও ফরিদগঞ্জ আসনের সাবেক সাংসদ ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির কাজ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।

২০১৬ সালে কাজ শুরু হলেও বর্ষায় এবং অসময়ের বৃষ্টির কারণে ডাকাতিয়ার পানি বৃদ্ধির অজুহাতে ৫-৬ মাস সেতুটির নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। সে কারণে সেতুর কাজ ১ বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। কিন্তু গত ৫ জানুয়ারি কাজের অগ্রগতি দেখতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর কাজ শেষ হতে এখনও অনেক বাকি। এ সময় কাজের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মোঃ সাহাবদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মূল সেতুর কাজ আগামী দু’মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কের ম্যাপ জটিলতায় কাজ সম্পন্ন হতে আরো সময় লাগবে।

সেতুটির দৈর্ঘ্য ২শ’ ৭৪ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ৬০ মিটার। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির পিতা ভাষা ভীর এমএ ওয়াদুদের নামানুসারে সেতুটির নামকরণের প্রস্তাব রয়েছে। চাঁদপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সেতুটির কাজ দেখাশোনা করছে। ৪টি বড় ও ১০টি ছোট আরসিসি পিলারের ওপর সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। এর উভয় অ্যাপ্রোচ সড়কের দৈর্ঘ্য ৬৭৫ মিটার। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ফরিদগঞ্জের বালিথুবার ইসলামপুর এবং চাঁদপুর সদরের রামপুর ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ সহজ হবে।

সেতুর স্থানটির সবচে’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে এখানে যে গুদারাঘাট ছিল, সেটি ফরিদগঞ্জের রূপসা জমিদার বাড়ির লোকজন চলাচলের একমাত্র ঘাট ছিলো। এই নৌকা ঘাটটি চাঁদপুর জেলার সর্ববৃহৎ ঘাট। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় জমিদার প্রথা শেষ হওয়ার পর চাঁদপুর জেলার ছোট-বড় সমস্ত নৌকাঘাটের বাৎসরিক ইজারা থাকলেও এই নৌকা ঘাটটি কখনো ইজারা দেয়া যেতো না।

জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় রূপসা জমিদার বাড়ির মানুষের ঐতিহ্য ও সম্মান ধরে রাখতে সে সময় তারা এই বগার গুদারা ইজারা দেয়া কাগজে-কলমে বন্ধ করে দেন।