মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু

চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে থাকা অবস্থায় রেলপথ দিয়ে হাঁটতে থাকা প্যাথলজি পরিচালক পঙ্কজ মজুমদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির সাগরিকা এঙ্প্রেস নামক ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে করুণ মৃত্যু হয়েছে। সে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ঝর্ণা রাণী মজুমদারের স্বামী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তার ২ মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, রোববার ১২ জানুয়ারি বিকেল পৌনে ৩টার দিকে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের মিশন রোড রেলক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশে পাটওয়ারী বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তি হাইমচর উপজেলার পাড়াবগুলা চরভৈরবী এলাকার বাসিন্দা মৃত বিভূতি মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে। সে শহরের মিশন রোডস্থ মেডিল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক।

স্থানীয়রা জানান, সাগরিকা এঙ্প্রেস ট্রেনটি চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে কোর্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে ঘটনাস্থলে আসার আগে বেশ কয়েকবার হর্ন বাজাচ্ছিলো। কিন্তু ওই ব্যক্তি রেললাইন থেকে না সরে হেঁটে যাওয়ার সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার দেহ থেকে মাথা আলাদা এবং শরীরের হাত-পা খ- বিখ- হয়ে যায়। এই ঘটনার পর উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমায়।

স্থানীয়রা আরো জানান, ওই ব্যক্তির সাথে একটি মোবাইল ফোন ছিলো। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে রেললাইন থেকে সরে যাওয়ার জন্যে বললেও ওই ব্যক্তি সরেননি। অনেকের ধারণা লোকটি আত্মহত্যা করেছেন।

চাঁদপুর জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সারোয়ার আলম জানান, ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার পরিবারের লোকদের খবর দেয়া হয়। তার স্ত্রী ঝর্ণা রাণী থানায় এসে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। মরদেহ উদ্ধার করে জিআরপি থানায় আনা হয়। তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এরপর তার লাশ আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তার অজ্ঞান হওয়া স্ত্রীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে নেয়া হয়েছে। পঙ্কজের এ মৃত্যু আত্মহত্যা কিনা তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে। এ ব্যাপারে আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।