মৈশাদীতে দু’সন্তানের জননীর আত্মহত্যা

downloadস্টাফ রিপোর্টার:
গতকাল মঙ্গলবার ভোর পৌনে ৭ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়নের মধ্য মৈশাদী গ্রামের খান বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে নাজমা বেগম নামে দু’সন্তানের জননী আত্মহত্যা করেছে। ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোঃ সালেহ অলি পাটওয়ারী আত্মহত্যার বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানাকে অবহিত করলে মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর ও সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে লাশটি ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে নিয়ে যান। পরিবারিক কলহের জের ধরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গৃহবধূ নাজমা বেগম (৪০) দক্ষিণ মৈশাদী গ্রামের খান বাড়ির মজিবুর রহমান বাবলু খানের (৫০) স্ত্রী। বিয়ের পর থেকে নাজমা বেগমের সংসারে অভাব, অনটন আর স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠে। প্রায় প্রতিদিনই স্বামী মজিবুর রহমান বাবলু খান স্ত্রী নাজমা বেগমের সাথে বাগ্বিত-া করতো ও তার উপর নির্মম অত্যাচার চালাতো বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। এতে নাজমা বেগম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন।

নিহত নাজমা বেগমের ছেলে নাজমুল খান জানান, তাদের পরিবারে প্রতিনিয়তই অভাব অনটন লেগে থাকতো, এ জন্যে বাবার সাথে মনোমালিন্যও ছিল। গত ১২ অক্টোবর তার মা একবার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও ছেলে বাধা প্রয়োগ করে বলে তিনি জানান। রাতভর ভাইবোন মিলে মাকে পাহারা দেন। সকালে ফজরের নামাজ আদায় করতে গেলে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল সাড়ে ৬টায় তার ছোট বোন মা আত্মহত্যা করেছে বলে ডাক চিৎকার করে। এরপর সে দড়ি কেটে নাজমা বেগমকে নামিয়ে দেখে মৃত্যুবরণ করে। এলাকাবাসী জানান, নিহত নাজমা বেগম একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তবে কুচক্রি প্রকৃতির মজিবুর রহমান বাবলু খানের জন্য নাজমা বেগম আত্মহত্যা করেন। নিহত নাজমা বেগমের ছেলে নাজমুল খান চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্সে অধ্যায়নরত, মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস মৈশাদী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী গ্রামের আখন্দ বাড়ির হাবিবুল্লাহ খানের মেয়ে নাজমা বেগম। এ মৃত্যু নিয়ে মধ্য মৈশাদী গ্রামে নানা গুঞ্জন চলছে।