‘মহীয়সী নারী’ সম্মাননা পেলেন ডাঃ দীপু মনি এমপি

রাজনীতিতে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মহীয়সী নারী’ সম্মাননা পেয়েছেন মেঘনাপাড়ের কন্যা, চাঁদপুরবাসীর অলঙ্কার ডাঃ দীপু মনি এমপি। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল ৮ মার্চ সকাল ১০টায় বৈশাখী টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ ডাঃ দীপু মনিকে ‘মহীয়সী নারী’র সম্মানে ভূষিত করেন।

ডাঃ দীপু মনি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী ও বৈশাখী টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু সুলতানের কাছ থেকে এ সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন।

ডাঃ দীপু মনি : বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডাঃ দীপু মনি ১৯৬৫ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম এম এ ওয়াদুদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ঘনিষ্ট সহচর। তিনি ভাষা সৈনিক ছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং ছাত্রলীগের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দীপু মনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেল্থ থেকে এমপিএইচ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমঝোতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনের উপর কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

দীপু মনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। দশম জাতীয় সংসদে ডাঃ দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা জয়ে সফল নেতৃত্ব দেন। প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সাথে প্রায় চার দশকের সমুদ্র সীমা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করেন। ডাঃ দীপু মনির গতিশীল পররাষ্ট্রনীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট ও বেগবান হয়। তিনি কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রিয়াল অ্যাকশন গ্রুপের প্রথম নারী এবং দক্ষিণ এশীয় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের সম্মাননা দেয়ার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।