মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে একক প্রার্থী ঘোষণা না করলে গণহারে পদত্যাগ

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে ‘অসত্য’ সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে এবং তাঁর মনোনয়ন নিণ্ডিতের দাবিতে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, জেলা পরিষদের সদস্য ও সকল ইউপি চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জনপ্রতিনিধি গণহারে পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কচুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডঃ মোঃ হেলাল উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ। আরো বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে আধুনিক কচুয়ার স্বপ্নদ্রষ্টা উল্লেখ করে বলা হয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি গোলাম হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তিকেও মনোনয়ন দেয়া হয়, যার পরিবার মুক্তিযোদ্ধার ভূমি জোরপূর্বক দখলকারী, হত্যা মামলার আসামী, বিএনপি ও জামাতের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, উপজেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, জেলা পরিষদের সদস্য ও সকল ইউপি চেয়ারম্যান ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নির্বাচন করতে ঐক্যবদ্ধ। সবশেষে যদি তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে আমরা সকল নেতা-কর্মী একসাথে গণহারে দলীয় পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করবো।

বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, জনৈক গোলাম হোসেন আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য নন। তিনি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে গত ২৮ নভেম্বর বুধবার জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেছে। আমরা এ ধরনের মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ করছি। লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের স্থলে যদি গোলাম হোসেনের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। তাহলে এ আসনে নৌকার বিপর্যয়ের দায়-দায়িত্ব উপজেলা আওয়ামী লীগ নেবে না।

কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান শিশির বলেন, জনৈক গোলাম হোসেন কচুয়া উপজেলার ২৪২টি গ্রামের সাথেও পরিচিত নন। তার সাথে দলের নেতা-কর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় বসুন্ধরা গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়ায় ওই পত্রিকাগুলো এখন তার পক্ষ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে এবং ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে। আমরা নেতা-কর্মীরা তার এহেন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক এবং ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। তাছাড়া পত্রিকায় যে উল্লেখ করা হয়েছে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সাথে কচুয়ার কোনো নেতা-কর্মী নেই, এটা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা তা বাস্তবে দেখানোর জন্যে আজ সাংবাদিক সম্মেলনে উপজেলার সর্বোচ্চ থেকে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এসেছি।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া পৌরসভার মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান সালমা শহীদ, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রওনক আরা রত্না, জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ সালাহ উদ্দিন ও উপজেলার বেশ ক’টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দকে লিখিত বক্তব্যের উপর বিভিন্ন প্রশ্ন করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহম্মদ ও টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, গোলাম কিবরিয়া জীবন, সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির, সাবেক সভাপতি বিএম হান্নান, শহীদ পাটোয়ারী প্রমুখ।