মতলব উত্তরে উপজেলা যুবলীগ সভাপতির উপর সন্ত্রাসী হামলা ।

মতলব উত্তর সংবাদদাতা :মতলব উত্তরে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি দেওয়ান জহিরের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে সুমন বেপারী বাদী হয়ে ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় ৫ জনের বিরুদ্ধে এবং মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪৩, ৩২৩ (৩২), ৩২৪, ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন।
থানায় দায়েরকৃত পৃথক দু’মামলায় উল্লেখ করা হয় গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নাউরী বাজারে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি দেওয়ান জহিরের উপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা হচ্ছে ঃ দক্ষিণ নাউরী এলাকার ওসমান গণি মাস্টারের ছেলে বাদল (৩৫), কবির হোসেন (৩২), কুদ্দুছ (৩৮) ও মোহাম্মদ, একই এলাকার আঃ রাজ্জাক প্রধানের ছেলে আক্তার হোসেন, আঃ মতিন প্রধানের ছেলে মনসুর আহম্মদ, শাহজাহান ওরফে বাদশার ছেলে সোলেমান (২৫) ও মনজুর, মৃত- রুহল আমিনের ছেলে মোঃ আরিফ (২০), আলী মিয়া দফাদারের ছেলে শাহ আহম্মদ (৪০)। গুরুতর আহত যুবলীগ সভাপতি জহিরকে প্রথমে মান্দারতলী উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমানের হস্তক্ষেপে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জহিরকে বাঁচাতে গিয়ে সুমন নামে একজন আহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দু’জনকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি দেওয়ান জহির নাউরী বাজারের কাছে আসলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা তার উপর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে।
অভিযোগ রয়েছ উল্লেখিত আসামিরা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আগেও থানায় মামলা রয়েছে। নজরুল ইসলামের দায়েরকৃত মামলায় ৫নং আসামি আকতারের নেতৃত্বেই এ সন্ত্রাসী হামলা হয়। আকতার চাঁদপুর-২ আসনের বর্তমান এমপি এম. রফিকুল ইসলাম সাবেক এপিএস থাকার সুবাদে সে লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তল দিয়ে অপব্যবহার করে আসছে। বিভিন্ন সময় পিস্তল দিয়ে লোকজনদের ভয়-ভীতি ও হুমকি দেয় সে। সে নাউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিল। বর্তমানেও ঐ পদে তাকে বহাল রাখতে বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সদস্যদের ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এছাড়া মামলার ২নং আসামি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় পলাতক আসামি হিসেবে আত্মগোপনে ছিল। বর্তমানে এলাকায় এসে সে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তাই ভুক্তভোগীরা উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।