মতলবে মাদ্রাসা ছাত্রের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার

মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের নন্দীখোলা সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহেল রানার (১৭) মস্তকবিহীন লাশ গতকাল ১৯ আগস্ট সোমবার দুপুরে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

সরজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের জা-বকশি তালুকদার বাড়ির হতদরিদ্র পরিবারের জমির হোসেনের ছেলে সোহেল রানা নন্দীখোলা ফাযিল মাদ্রাসায় পড়তো এবং পরিবারের প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে বাবার টমটম চালাতো।

নিহত সোহেল রানার মা সামছুন নাহার জানান, আমার ছেলে রাতের খাবার খেয়ে পাশের হাজী বাড়ির খৎনা অনুষ্ঠানে যাবে বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। সেখানে তার বড় ভাইও খৎনা অনুষ্ঠানের গান-বাজনা শুনে রাত ২টায় ঘরে আসে। সোহেল রানা তখন ঘরে ফিরে না। তার ভাই বলে, এসে পড়বে বলে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। সকালেও ঘরে না ফিরলে আমি আশপাশে খোঁজ-খবর নেই। কোথাও না পেয়ে নায়েরগাঁও বাজারেও সোহেলের বাবাকে পাঠাই। সেখানেও তার হদিস মিলে না। পরে তার মাথাবিহীন লাশের সন্ধান পাই। আমার কোনো দুশমন নাই। কে আমার ছেলেকে মারলো। আমি আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

সোহেলের বাবা জমির হোসেন জানান, অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বেলা ১২টার দিকে আমি ও আমার শ্যালক আবুল কালামসহ তার পরিত্যক্ত নতুন বাড়িতে খোঁজ করতে যাই। সেখানে ঘরে তাকে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখতে পাই পোষাক পরিহিত একজন মানুষ পড়ে আছে। ওখানে গিয়ে দেখতে পাই যে আমার সোহেলের মস্তকবিহীন নিথর দেহটাই শুধু পড়ে আছে। তখন আমার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।

বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে থানা পুলিশ সোহেলের লাশ উদ্ধার করে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থলে মতলব দক্ষিণ পুলিশসহ চাঁদপুর থেকে ডিএসবি ও পিবিআই সদস্যরা যায়।

একাধিক এলাকাবাসী জানায়, এ পরিবারটি একটি নিরীহ ও নিরিবিলি পরিবার। এখনও বুঝতে পারছি না এ ছেলেটাকে কারা মেরে ফেললো। যারাই মেরেছে তাদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

পিবিআই চাঁদপুরের পরিদর্শক মোঃ মাহবুব জানান, সোহেলের দেহের বাম দিকে ডেগার মারার দাগ রয়েছে। দেহ থেকে মস্তক আলাদা। মস্তক পাওয়া যায়নি। শরীরের নিচের অংশে বস্ত্রাদি ছিল না। আমরা এ হত্যার আলামত সংগ্রহসহ মামলার ছায়া তদন্ত হিসেবে কাজ করবো।

মতলব দক্ষিণ থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ বলেন, তার বাবার ধারণা সোহেলের মামা আবুল কালাম সোহেলকে নতুন একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল সেট দিয়েছে। সেটার জন্যই হয়তো তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও অনেক বিষয় আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। তবে পূর্ব শত্রুতার জের থেকে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তদন্ত চলছে ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।