বাসারা নেছারবাদ ছিদ্দিকিয়া ছালেহিয়া ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান

মো. শিমুল হাছান:
শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামো সংকটে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে ফরিদগঞ্জের বাসারা নেছারবাদ ছিদ্দিকিয়া ছালেহিয়া ডিএস ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণি পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের অভাবে মাদ্রাসাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ন কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবী শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা নির্ভিঘœ করতে জরুরী ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানে একটি ভবন নির্মান করা প্রয়োজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চার দশক পূর্বে মাদ্রাসা মাঠের উত্তর-দক্ষিণ পাশে টিন দিয়ে ৫ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর নির্মান করা হয়। এই টিনের ঘরের পূর্ব-পশ্চিম পাশে রয়েছে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট আরেকটি আধাপাকা টিনের ঘর। দুটি ঘরের টিনের চালার ফুটো দিয়ে ভেতরে আলো আসছিলো। বর্ষায় যার মধ্যে দিয়ে পানি পড়ে। এছাড়া ঘরের চারপাশের বেড়াগুলোও ভাঙ্গাচুরা। এর উত্তরপাশে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আরেকটি ভবন রয়েছে। যার একটি শ্রেণিকক্ষ এবং অপরটি শিক্ষকদের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এ নিয়ে দশম শ্রেণির কুলসুমা অক্তার, খাদিজা অক্তার, মুক্তা আক্তার, তুহিন হোসেন, রবিউল ইসলাম, সপ্তম শ্রেণির ফারজানা অক্তার, মারজাহান আক্তার, ৮ম শ্রেণির সুরাইায়া অক্তার, সাব্বির হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, বৃষ্টি আসলে পানি পড়ে শ্রেণি কক্ষে বই-খাতা ভিজে যায়। এছাড়া ভাঙ্গা বেড়া দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ধূলাবালি প্রবেশ করে। এতে করে আমাদের লেখা পড়া বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সহ সুপার কবির হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, জারাজীর্ণ এই শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা অত্যান্ত কষ্টকর। বর্ষা মৌসুমে কিভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করবো এ নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত।
মাদ্রাসাসূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে মরহুম মাও. আব্দুল হামিদ সর্দার ১০১ শতাংশ জায়গার উপর মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলেও শ্রেণিকক্ষ কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মানের জন্যে এখানে সরকারি কোন অনুদান আসেনি। বর্তমানে এখানে ১০ জন শিক্ষক ইবতেদায়ী প্রাক- প্রাথমিক শ্রেণি থেকে দাখিল শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছে। তবে ইবতেদায়ী প্রধানসহ ৫জন শিক্ষকের পদ শুণ্য রয়েছে।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাও. মোশারফ হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, গত ক’বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে দাখিলে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে এবং জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক। কিন্তু, শ্রেণিকক্ষের অভাবে এখানে জরাজীর্ণ দুটি টিনের ঘরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হয়ে। বর্ষা মৌসুমে টিনের চালার ফুটো দিয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে যায়। শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করার জন্যে জরুরী ভিত্তিতে মাদ্রাসাতে একটি বহুতল ভবন নির্মান করা প্রয়োজন।