বাংলাদেশ সরকার হোমিওপ্যাথি আইন-২০১৮ পাস করা ও জাতি দায়মুক্তি হওয়া দরকার।

বাংলাদেশ সরকার হোমিওপ্যাথি আইন-২০১৮ পাস করা ও জাতি দায়মুক্তি হওয়া দরকার।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের সার্বিক সহযোগীতায় দেশের কয়েকটির মধ্যে একটি অন্যতম হোমিওপ্যাথি পেশাজীবী সংগঠন এর হোমিওপ্যাথি সম্মেলনে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী’র আগে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বক্তব্য রেখেছেন। তা অনেকে মোবাইল সরাসরি লাইভে দেখেছেন বা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হোমিওপ্যাথি ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ গুলোর শিক্ষক বা কোন বোর্ড কর্মকর্তা বা কোন ব্যক্তি কি বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জমাকৃত বহুল প্রতিক্ষিত পূর্ণাঙ্গ “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন-২০১৮ (প্রস্তাবিত)” এ সরকারের শেষ সময় হলেও বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত জাতীয় সংসদে পাস হোক?
কোন ব্যক্তি সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেনি। তাহলে তো মাননীয় মন্ত্রীর ভাষ্য জানা যেত। “শিশু কান্না না করলে মায়ে দুগ্ধ পান করায় না।”
কিভাবে বেতন বাড়বে শুধু সে দাবি হোমিওপ্যাথি’রা করেছে। আইন পাস না করলে হোমিওপ্যাথি ভবিষ্যতে কোন অবস্থান যাবে সেটা কেহ বলতে পারেনা। সময় উপযোগী আইনি ভিত্তি উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে হোমিওপ্যাথি’র বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ।

ইতিপূর্বে অসাংবিধানিক ও অবৈধ সামরিক সরকারের সময় জারিকৃত অধ্যাদেশ-১৯৮৩ ও প্রবিধান-১৯৮৫ দিয়ে হোমিওপ্যাথি চললেও মহামান্য হাইকোর্ট বলেছে সামরিক সরকার অবৈধভাবে নির্বাচিত সরকার কে হঠিয়ে ও সংবিধানকে স্থগিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল অবৈধ ও অসাংবিধানিক এবং তাদের সময় জারিকৃত সকল বিধিবিধান অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে। ফলে অধ্যাদেশ, প্রবিধান ও এগুলোর আলোকে মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন, অফিস আদেশ, নিয়োগ বিধিমালা অন্যান্য বিধিবিধান গ্রহণ যোগ্যতা কতটুকু?

ফলে হোমিওপ্যাথির জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উপযোগী নতুন পূর্ণাঙ্গ আইন (বাংলা) করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড (কয়েকবার সংযোজন/সংশোধন/পরিমার্জন করে ১৪/০৩/২০১৩ হতে ২০১৮) প্রণয়ন করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা হয়। কিন্তু আইনটি কোন এক অদৃশ্য কারণে এখনো মন্ত্রী পরিষদ ও জাতীয় সংসদে যায়নি এবং পাস হয়নি। আইনটি পাসের সাথে ডিএইচএমএস কোর্সের স্নাতক (পাস) সমমান নির্ধারণ, বর্তমান কোর্সের ও ইন্টার্নী মেয়াদ বৃদ্ধি, সামাজিক মর্যাদা, সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ে কর্মসংস্থান, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগে নিবন্ধন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আলট্রস্নোগ্রাফী-মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ে এমপিএইচ কোর্স সহ বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য হোমিওপ্যাথি সরকারী-বেসরকারি পর্যায়ে হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উচ্চতর কোর্স চালু, ডাক্তারদের নিয়ন্ত্রণের জন্য ও ডাঃ হিসাবে পেশার রেজিষ্ট্রেশন সনদপত্র দেবার জন্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কাউন্সিল (বি.এইচ.এম.সি) গঠন ও কার্যক্রম সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত নয় কি?

এজন্য অবিলম্বে বহুল প্রতিক্ষিত পূর্ণাঙ্গ হোমিওপ্যাথি আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করা জরুরী।
তারপর হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ গুলো জাতীয়করণ করা। সরকারীকরণ হলে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারী বেতন স্কের পাবে ও সুযোগসুবিধা বাড়বে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে, প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা হবে, অনেক কর্মসংস্থান হবে, বর্হি বিভাগে ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভাল মানের চিকিৎসা রোগীরা পাবে। এসবের জন্য সর্বাঙ্গে প্রয়োজন হোমিওপ্যাথি আইন পাস করা। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতে বোর্ডের বরাদ্দ থেকে বেতন। আইন পাস না হলে কি দূরাবস্থা হয় তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে।

সামনে আগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি ও রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি নিয়ে অনেকে ব্যস্ত। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০% লোক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে (আশা ইউনিভার্সিটি ও বিবিসি-বাংলা গবেষণা প্রতিবেদন-২০১৫)। চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সর্ব বৃহৎ অংশ দেশের তৃর্ণমুলের সম্মানীত ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকৃত ডাক্তারগণ। এসব হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের তৃর্ণমুলের বিশাল জনপ্রিয়তা ও জনগণের সঙ্গে আস্থা-গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোট ব্যাংককে সরকার কাজে লাগাতে চায়।
বহুল প্রতিক্ষিত হোমিওপ্যাথি আইন পাস না করলে কি সাধারণ সকল হোমিওপ্যাথি ডাক্তারগণ কাজ করবে?
সকল ডাক্তারগণ হোমিওপ্যাথি শিক্ষকতা চাকুরী করেনা। বেশির ভাগ ডাক্তার নিজ এলাকায় নিজস্ব/ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখে থাকেন। সরকারী বা বেসরকারি চাকুরী করেন না। কয়েক লাখ ডাক্তারের মধ্যে মাত্র কয়েক হাজার হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা চাকুরি করে।
আগে প্রয়োজন আইন পাস করা, তারপর সকল ডাক্তারদের নিকট হতে সহযোগীতা চাওয়া বা কাজ করার কথা বলা। হোমিওপ্যাথি আইন পাস না করে কোন মুখে বা বিবেকে সকল ডাক্তারের সহযোগীতা চাওয়া সম্ভব কি? আইন পাস করলে কয়েক লাখ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারগণ কৃতজ্ঞতা অবশ্যই জানাবে। ডাক্তারদের নিকট হতে সহযোগীতা চাইতে হবেনা। সাধারণ সকল ডাক্তারগণ অকৃতজ্ঞ নয়। সকলে কৃতজ্ঞতা দেখাতে জানে ও কাজ করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২খ্রিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে গড়া হোমিওপ্যাথি ও চালুকৃত ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকৃত ডাক্তারগণ, স্বাধীনতার চারদশকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে সকল ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সের স্নাতক (পাস) সমমান নির্ধারণ করে স্বার্থ সংরক্ষণ সম্মানজনক ভাবে করে ও যথাযথভাবে হোমিওপ্যাথি আইন প্রণয়ন তা জাতীয় সংসদে অবিলম্বে পাস করা।
যথাযথভাবে ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) কোর্সকৃতদের স্বার্থ সংরক্ষণ না করে ও আইন পাস না করলে ভোটের রাজনীতি জন্য কোন সম্মেলন, সেমিনার, মহাসম্মেলন করে কোন কাজ হবে কি? দেশব্যাপী ২০মে-৩০মে ২০১৮ ডিএইচএমএস’দের কোর্সকে স্নাতক (পাস) সমমান নির্ধারণ আন্দোলন-সংগ্রামের পর হতে এখন ডিএইচএমএস’রা সব দিক দিয়ে খুব সচেতন, সব বুঝে ও জানে এবং ঐক্যবদ্ধ। কেহ ডিএইচএমএস’দের বিরুদ্ধে বা স্বার্থবিরোধি কিছু লিখলে বা কমেন্ট করলে পাল্টা জবাব দেবার সক্ষমতা এখন আর তা কয়েকজন নয়, ডিএইচএমএস’রা সকলেই সক্ষমতা রাখছে। এজন্য অভিনন্দন। তারা চাটুকারিতা ও লেজুরবৃত্তি ব্যক্তিকে সামনে কিছু না বললেও অন্তরে ঘৃণা করে। এদের দিন শেষ, তা পরিহার করে ডিএইচএমএস’দের জন্য সঠিক কাজ করুন ও শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা অর্জন করুন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমাকৃত বহুল প্রতিক্ষিত ও হোমিওপ্যাথিদের আন্দোলন/সংগ্রামের মাধ্যমে প্রণয়নকৃত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন” টি পাস করতে পারলে বর্তমান সরকার সত্যিই হোমিওপ্যাথি বান্ধব সরকার হিসাবে সকল হোমিওপ্যাথির নিকট জনস্বীকৃত বা জাতি স্বীকৃতি দিবে বা স্বীকৃতি পাবে। তার আগে কোন স্বীকৃতি পাবে কি? আইন পাস করলে তা সরকারের জন্য স্বার্থক হবে। অবশ্যই তখন বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি ও ইতিহাস স্মরণ করবে।

আসুন বোর্ড ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর কর্মকর্তারা যথাযথ ভাবে (সংযোজন/সংশোধন/পরিমার্জন ২০১৩-২০১৮) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা হয়ে থাকা বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন-২০১৮ (প্রস্তাবিত) পাস করে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের নিকট হতে দায়মুক্তি নেই ও জাতিকে হোমিওপ্যাথিদের বিভিন্ন সরকারের চারদশকের অবহেলা (১৯৭২-২০১৮) এবং বঞ্চনার দায়মুক্তি করি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুমন্ত বিবেক জাগ্রত হোক।

বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের এক দফা, এক দাবিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে “বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আইন-২০১৮ (প্রস্তাবিত)” অবিলম্বে পাস কর, করতে হবে।

(মতামত)

লেখকঃ

ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম (শিপলু)।
ডিএইচএমএস (রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল)
এমএসএস (এশিয়ান ইউনিভার্সিটি)

প্রধান সমন্বয়ক
বাংলাদেশ ডিএইচএমএস (হোমিওপ্যাথি) চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ।
বাংলাদেশ।

(চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রাক্তন সাংবাদিক ও কলামিস্ট)