বনানীর অগ্নিকান্ডে চাঁদপুরের ৩ জন নিহত

শাহরিয়ার খাাঁন কৌশিক
বনানীর এফ আর ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় চাঁদপুরের ৩জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের মুন্সি বাড়ীর মকবুল আহমেদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক তমাল, মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের বেনু প্রাধানিয়ার ছেলে রেজাউল করিম রাজু, কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের বাইছাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আতাউর রহমান চঞ্চল।

তমাল ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু মিনহাজ উদ্দিন। মিনহাজ আরো জানান, তমাল ঢাবির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ব্যাচ ২০০৬-০৭। পাস করেছে ২০১১ সালে। তিনি ই ইউ আর বিডি সলিউশন-এ সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে তার শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গেছে।

তমালের চাচাতে ভাই ফরিদগঞ্জের শ্রিকালিয়া গ্রামের সালাহউদ্দিন জানান, তমালরা স্ব-পরিবারে ঢাকার সারুলিয়া বসবাস করেন। তার দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। ৩ ভাইয়ের মধ্যে তমাল দ্বিতীয়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামের রেজাউল করিম রাজু ওই ভবনের ৫ম তলার আসিফ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। ওই ভবনের ৫তলার পুরো প্লটটি তিনি ক্রয় করে ব্যবসা করতেন। রাজু ১ ভাই ৩ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। রাজু স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তান নিয়ে বনানীতে থাকেন। বাবা বেনু প্রধানীয়া চট্রগ্রামের একজন ব্যবসায়ী।

রাজুর চাচা শশুরের ছেলে ট্রাভেল্স ব্যবসায়ী হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার রাতে আমরা তার মৃতদেহ সনাক্ত করে গ্রহণ করেছি। তাকে কোথায় দাফন করা হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা। রাজু জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ওড়পুর গ্রামে বিবাহ করে। তার শশুর পরিবারের সকল সদস্যই লন্ডন প্রবাসি।

রামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক এস এম মানিক জানান, রাজু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তারা কেহই এলাকাতে থাকেনা। রাজুর বাবা চট্রগ্রামের একজন বড় ব্যবসায়ী।

অপর নিহত আতাউর রহমান চঞ্চলের চাচাতো ভাই দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইংরেজী বিভাগের চেয়ারম্যান মুন্সী নূরুল আলম বেলাল বলেন, চঞ্চল কয়েকদিন আগে বনানীতে অফিস স্থানান্তর করেন। ঘটনার সময় চঞ্চল শেষ বারের মতো তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইফরানুর রহমানকে ফোন করে বলে আমি ছাদে আছি। কিন্তু পরবর্তীতে তার ছেলেসহ অন্যান্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ভবনের ছাদসহ কোথাও খুজেঁ না পেয়ে হাসপাতালে যোগাযোগ করে। রাত ৩টার দিকে সিএমএসএস হাসপাতাল থেকে তার লাশ শনাক্ত করে পরদিন শুক্রবার লাশবাহী অ্যাম্বলেন্স যোগে বাড়িতে নিয়ে আসে।

চঞ্চল মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ বহুগুনগ্রাহী রেখে গেছেন। নিহতের মেয়ে তাসনিয়া রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত।

বিতারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আবদুল বারেক প্রধান বলেন, চঞ্চল বাংলাদেশ বিমানে চাকুরী করতো। চাকুরী শেষ হওযার পর অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের একটি ট্রাভেল্সে চাকুরীতে যোগ দেয়। আগুনে তার শরীর ৯০ভাগ পুড়েগেছে।