ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ফরিদগঞ্জে এক শিক্ষকের মুঠোফোন জব্দ

স্টাফ রিপোর্টার

ফেসবুকে হিন্দুধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ আতিকুর রহমান নামে এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় ডেকে নিয়ে আসেন। পরে মুচলেকার বিনিময়ে তিনি সাময়িক ছাড়া পেলেও পুলিশ তার মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। এদিকে ওই সহকারী শিক্ষক জানান, পোস্টটি তিনি দেন নি, তার শ্যালক ফেসবুকে এই পোস্টটি দেয়।

জানা গেছে, উপজেলার গোয়ালভাওর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুর রহমানের ফেসবুক আইডিতে গত ৪ নভেম্বর বিকেলে সনাতন তথা হিন্দুধর্মকে কটাক্ষ করে একটি ছবি ও লেখা পোস্ট করা হয়। বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগায় উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে মঙ্গলবার রাতে অবহিত করেন। পরে থানা পুলিশ আতিকুর রহমানকে বুধবার সকালে থানায় হাজির হতে বলেন। বুধবার সকালে ওই শিক্ষক থানায় হাজির হলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি জানান, ফেসবুক আইডিটি তার নামে হলেও তার শ্যালক এই আইডিটি ব্যবহার করে আসছে।

পরে থানা পুলিশ আতিকুর রহমানকে উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতির জিম্মায় মুচলেকার বিনিময়ে ছেড়ে দিলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, আতিকুর রহমানকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ছবি বা ধর্মীয় অবমাননাকর কোনো কিছু লিখবে না। এছাড়া জব্দকৃত মুঠোফোনটি সিআইডির কাছে পাঠানো হবে, তখন তদন্তের স্বার্থে তাকে ডাকা হলে আতিকুর রহমান থানায় হাজির হবে এই মর্মে তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

একটি সূত্র জানায়, আতিকুর রহমানের নামে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি পোস্ট ছাড়াও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট ছিল। যদিও তিনি টের পেয়ে এগুলো ডিলিট করে ফেলেন। সূত্র জানায়, আতিকুর রহমান নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক বলে জাহির করতে পুলিশের কাছে গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের একটি প্যাডে সভাপতি ও সম্পাদকের স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়ন জমা দিয়েছেন। যা দেখে অনেককেই বিস্মিত হন।