ফরিদগঞ্জ রামপুর ভায়া — কাটাখালী সড়কের কাজে অনিয়ম ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

মো. শিমুল হাছান:,

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা ঃ উপজেলার ফরিদগঞ্জ রামপুর ভায়া — কাটাখালী সড়কে চলমান কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যাহারের অভিযোগ রয়েছে। সড়কে সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হচ্ছেনা বলে এলাকাবাসী জানায়। তাছাড়া নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করার কথাও জানান।
সংশ্লিষ্ট এলাকাসীর মধ্যে প্যানেল মেয়র ও কাউন্সেলর মোঃ খলীলুররহমান, আব্দুল মান্নান ,মাসুদ আলম ,নেছার আহাম্মদ ,আলমগীর মোল্লা,আব্বাছ উদ্দিন জানান, সড়কটিতে মান সম্মত কাজ করা হচ্ছেনা। সিডিউল মোতাবেক কাজ করার কথা থাকলেও এখানে তা উপেক্ষিত হচ্ছে। সেন্ট ৬ইঞ্চি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ২/৩ ইঞ্চি , ৩ ইঞ্চি মেকাডম করার কথা থাকলেরও ১ থেকে দেড়, সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি দেওয়া হচ্ছে। সড়কের দু‘পাশ ১ ফুট করে সম্প্রসারণের কথা থাকলেও তা সঠিক পরিমানে প্রসস্থ করা হচ্ছে না। ১নং ইটা ব্যবহারের নিয়মটিও মানা হয়নি। পূর্বে ব্যবহারিত রাস্তার উপরের পিচ অংশ ও পুনঃনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার সড়টি জীর্ণ দশায় পরিনত হয়ে পড়বে । প্রতিদিনই কাজের অনিয়মের বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে।
সহকারী প্রকৌশলী খলিলুররহমান কাজের সাইডে গিয়ে এলাকার সাবেক কাউন্সেলর আব্দুল খালেক মাস্টারকে মোবাইল নাম্বার দিয়ে বলে এসেছেন, কাজের অনিয়ম হলে ফোন দিয়ে জানাতে। এছাড়া কাজ দেখে বলেছেন, পুরোকাজ আবার করতে হবে। তাতেও কোন লাভ হয়নি।
কাজের সঠিক গুনগতমান রক্ষা হচ্ছেনা। ঠিকাদার ও প্রসাশনের লোকজনের যোগসাজস্যে সুবিধা বিনিময়ের মধ্যদিয়ে নিন্মমানের কাজ করা হচ্ছে বলে জানান এলঅবাসী। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও এ জন্য দায়ী করছেন এলাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানাযায়, ফরিদগঞ্জ রামপুর — কাটাখালী সড়ক ৩ হাজার মিটার । মেরামতের জন্য ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।
কাজের সাব-কন্ট্রাকটর রৌশন আলী জানান ,সড়ক মেরামতের কাজ আমি মেইন কন্ট্রাকটরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে করছি। তবে মালামাল ভালো-খারাপ ঠিকাদার সরবরাহ করছে। আমার কাজ করার কথা আমি কাজ করছি।
সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার হাইমচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি.এম জাহিদের কাছে কত টাকার কাজ জানতে চাইলে তিনি জানান,তা আমি বলতে পারবোনা অফিস জানে। কাজের অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে জানান, অফিসের লোকজনের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করছি যা জানানর থাকে অফিসে গিয়ে জানুন। আমি হাইমচর উপজেলা আওয়ামীলেিগর সাংগঠনিক সম্পাদক,ফরিদগঞ্জ পৌর সভার মেয়র আমার বন্ধু মানুষ, উপজেলা চেয়ারম্যান আমার রাজনৈতিক বন্ধু, টিভির সাংবাদিক আমার ছোটভাই, চাঁদপুরের সাংবাদিকরা আমার বন্ধু মানুষ ,দীপুমনি আমাদের লোক ইত্যাদি ইত্যাদি। সব মিলিয়ে তিনি বলতে চাচ্ছেন, আমি আওয়ামীলীগ করি আর আওয়ামীলীগের লোকজন আমার বন্ধু – বান্ধব এ হচ্ছে কাজের অনিয়মের প্রশ্নের উত্তোর । তিনি আরোও বলেন, কোন সাংবাদিক কাজের অনিয়মে প্রশ্ন তুলেনি। আপনারা কোথায় ফেলেন অনিয়ম। পুরোন কাজের পিচ কংক্রিট পুনঃরায় ব্যবহার করছেন কেন? প্রশ্নে জানন, অফিস বলেছে তাই ব্যবহার করছি।
এ বিষয়ে কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত এসও মোঃ খলিলুররহমানের নিকট কত টাকার কাজ জানতে চাইলে তিনি প্রতিউত্তোরে বলেন, ফাইল দেখলে বলা যাবে। কাজের অনিয়মের প্রশ্নে তিনি জানান, কিছু অনিয়ম দেখতে পেয়ে সঠিকভাবে কাজ করার জন্য বলেছি। অথাৎ এজেন ইটা উঠিয়ে পুনঃরায় স্থাপন করতে বলেছি। যেন সঠিক ভাবে কংক্রিট দেওয়া যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী ড. মোঃ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার জানান, কাজের মান রক্ষায় আমি সচেষ্ট। রোববার আমি কাজের সাইড পরিদর্শন করে কংক্রিটের মান একটু খারাপ দেখে ভালো কংক্রিট এনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি । অন্যান্য দিকগুলোও সঠিক নিয়ম মেনে কাজের গুনগতমান রক্ষা করেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলে এসেছি।