ফরিদগঞ্জ পৌর কাউন্সিলরদের অনাস্থার প্রতিবাদে মেয়রের সংবাদ সম্মেলন

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জ পৌর কাউন্সিলরদের অনাস্থার প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র মো. মাহফুজুল হক বলেন, আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। স্বাধীনতা বিরোধীচক্র আমার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
গত বুধবার (২৫ এপ্রিল) ফরিদগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মাহফুজুল হক এসকল কথা বলেন। এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার ও তিনজন পৌর কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপজেলা মেয়র সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
গত মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৭ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের অনাস্থা প্রস্তাব এনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন হিসাবে মেয়র মো. মাহফুজুল হক এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেনের পিতা হাজী আব্দুল আলী ১৯৭১ সালে গঠিত শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন হিন্দু বাড়ি জ¦ালিয়ে তা দখল করে বর্তমানে বসত বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করছেন। সাবেক এ পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও মেয়র কর্তৃক ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী হামলার শিকার হই। ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রতীকের মেয়র প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য তিনি নানা ষড়যন্ত্র লিপ্ত থাকেন। কিন্তু আমার বিজয়ের পর থেকেই আমাদের নিজ দলীয় প্রভাবশালী নেতাসহ বিএনপি-জামায়াতের সহযোগীরা আমাকে অপসারনের জন্য অদ্যবধি নানা ষড়যন্ত্র করে আসছেন। সর্বশেষ সম্মানিত কাউন্সিলরগনদের ভয় ভীতি ও অর্থ লোভ দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদানের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিয়ে আসছেন।
কাউন্সিলরদের আনিত অভিযোগ সর্ম্পকে তিনি আরো বলেন, আমি নৌকা প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ৯টি ওয়ার্ডেই সমভাবে ব্যাপক উন্নয়ন করে আসছি। আমার উন্নয়নের প্রতি ইর্ষান্বিত হয়ে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নৌকা প্রতিকের বিরোধীতা করে আসছেন।
গত ২৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৭ জন সাধারন কাউন্সিলর ও ২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সংবাদ সম্মেলন করে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র, সচিব ও পৌর ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে দাবী করেন, মাসিক সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই পৌর মেয়র একক ক্ষমতা বলে অনিয়ম করে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ না করে বিল উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন এবং ইঞ্জিনিয়ারকে ভয় ভীতি দেখিয়ে বিলে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। ইঞ্জিনিয়ার মেয়রের রোষানলের ভয়ে ছুটি কাটান। মেয়র কাউন্সিলরদের কিছু না জানিয়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভি.জি.এফ কার্ড সহ টি.আর, কাবিটা প্রকল্প ও পৌর কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া একক ক্ষমতা বলে করেন। মেয়র তার বিরুদ্ধে আনিত এ সমস্ত অভিযোগগুলো সর্ম্পূন মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিমূলক বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।
মেয়র আরও বলেন, উল্লেখিত সকল কাজ পৌরসভার মাসিক সভায় উপস্থিত সকল কাউন্সিলরগণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সম্পন্ন হয়ে থাকে। যা পৌরসভার কার্যবিবরনীতে কাউন্সিলরগণের স্বাক্ষরই প্রমাণ করে।
কাউন্সিলরদের দাবি অনুযায়ী মেয়রের রোষানল থেকে সমাজের অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী তার অবৈধ কাজে বাধার প্রেক্ষাপটে মেয়র ও তার লোকজন তাদেরকে হুমকি-ধমকি ও লাঞ্চিত করেন। তাদের এ বক্তব্যও বাস্তবতা বিবর্জিত। সর্বোপরি প্রায় শূণ্য হাতে পৌরসভার দায়িত্ব গ্রহণ করে সাবেক মেয়রের রেখে যাওয়া প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে আমাদের হিমসিম খেতে হয়েছে। ফলে সম্মানিত কাউন্সিলরগণের সম্মানি ভাতা পরিশোধ করতে বিলম্ব হচ্ছে। ভবিষ্যতে রাজস্বফান্ড প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে বকেয়া সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে বলে তিনি আস্বস্ত করেন।
মেয়র মাহফুজুল হকের সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেন বলেন, সংবাদ সম্মেলনে আমি ও আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ফরিদগঞ্জের জনগণ জানে আমি ও আমার বাবা কেমন প্রকৃতির লোক। এছাড়া আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে পৌরসভার কোন ঋণ ছিলো না।
এদিকে মেয়র মাহফুজুল হকের বক্তব্য সর্ম্পকে অনাস্থা প্রদানকারী কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ মো. খলিলুরর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এখানে কারো সাথে আতাত করার সুযোগ নেই। কারো পরোচনায় নয়, জনগনের স্বার্থেই অনাস্থা দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌর সচিব মো. খোরশেদ আলম, কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান পরান, জাকির হোসেন গাজী, সংরক্ষিত কান্সিলর খতেজা বেগম আলেয়া, সহকারী ইঞ্জিনিয়ার মো. নজুরুল ইসলাম, কোষাধক্ষ্য গিয়াস উদ্দিন, পৌর আ’লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন রতন, আ’লীগ নেতা আব্দুর রহমান বাবলু প্রমুখ।