ফরিদগঞ্জে  ৫৬ জন দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ দেয়ার প্রলোভনে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

ফরিদগঞ্জ  সংবাদদাতা:
ফরিদগঞ্জে গত এক বছরেও ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬ জন দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উক্ত নিয়োগকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্যসহ গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া গত এক বছর যাবৎ এ নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় চাকরি প্রার্থীসহ বিভিন্ন মহলে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় (পিডিবি-৩) প্রকল্পের অধীনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩০জুন ২০১৮ খ্রি. এর মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন না হওয়ায় এখন পুরনো তারিখে সই স্বাক্ষর দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় তা সম্পন্ন করার জন্যে একটি পক্ষ উঠে পড়ে লেগেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব চাকরি দেয়ার তৎপরতা থাকার কারণে নিয়োগ সম্পন্ন করা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা এখন বিপাকে আছে।
উপজেলার ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৬ জনকে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য গত বছরের ৯ জুলাই বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছিল। গত বছরের ১২ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকার বলে ফরিদগঞ্জের সাবেক ইউএনও ডা. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী ২০১৭ সালের ৯ জুলাই উক্ত পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সে হিসেবে উক্ত পদে চাকরি করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা তাদের আবেদন করেন। গত রমজান মাসে ওইসব পদে চাকরি প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ক’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা এ প্রতিনিধিকে জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও গত অর্থ বছর ৩০ জুন শেষ হলেও কি কারনে উক্ত পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়।
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওইসব পদে লোক নিয়োগের নামে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে গোপনে লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়েছে। চাকরির আশায় ঘুষ প্রদানের পরেও এখনো চাকরির নিশ্চয়তা না পেয়ে হা হুতাশ করছে চাকরি প্রার্থীরা। বিভিন্ন জায়গায় ঘুষ প্রদানের নামে প্রতিজনের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সবার মধ্যেই চরম অসন্তেুাষ বিরাজ করছে।
এ নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মনিরুজ্জামান গত বৃহস্পতিবার বিকালে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ওইসব পদে চাকারর নিয়োগের বিষয়ে এমপি মহোদয়ের সাথে সমন্বয় করে তার নিশ্চিত করার জন্য সরকারি নিয়ম রয়েছে। এখন এমপি স্যার সময় দিলেই ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
ইউএনও এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান শুক্রবার ৬ জুলাই সকালে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ওই সব নিয়োগকে কেন্দ্রে করে প্রাপ্ত কিছু অভিযোগ যাচাই বাছাই চলছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও আরো বলেন, তবে সরকারি নিয়ম নীতি মেনেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
অপরদিকে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি এবং ওই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।