ফরিদগঞ্জে হানিফ হত্যার রহস্য !

মো.শিমুল হাছানঃ
ফরিদগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হানিফ হত্যার রহস্য উম্মোচিত হতে শুরু করেছে।যতই দিন যাচ্চে ততই ধীরে ধীরে হত্যার প্রকৃত রহস্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিহত হানিফ তপাদারের বাড়িতে মামলা ও পুলিশ আতংকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন ভূক্তভোগীদের মধ্যে এলাকার বেশ কয়েকজন তাদের বক্তব্যে বলেন, সত্যিকার অর্থে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে নিরুপায় হয়ে নিহত হানিফকে গণ পিটুনি দেয়। এদিকে তথ্যসূত্র থেকে জানায়ায়,হানিফের বাবা হানিফকে অতিমাত্রায় ঔষুধ খাইয়ে দিলে তারই বিষ ক্রিয়াকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন এলাকাবাসী অনেকে।
এলাকার লোকজনের মধ্যে চা দোকানী জাকির হোসেন জানান, আমি হানিফ থেকে এখনও ২০ হাজার টাকা পাবো । বহুবার টাকা চাইতে গিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছে কিন্তু পাওনা টাকা এ যাবৎ দেয়নি।
একতা বাজারের কনফেকশনারী দোকানী মোস্তফা জানান, আমার দোকানে নিহত হানিফ তপাদার ১২ টাকা বাকি খেয়েছে। টাকা চাইলে উল্টো ভয়-ভীতি দেথাতো। একদিন টাকা চাওয়ায় হানিফ পিছন দিক দিয়ে চোরা গুপ্তা হামলা চালিয়ে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ি রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় আমি ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত বিচার চেয়ে অভিযোগ দিয়েছি। হানিফ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নোটিশকে কোন ধরণের তোয়াক্কা করেনি। এ যাবৎ পাওনা টাকা ও মারধরের কোন বিচার পাইনি।
উত্তর রাজাপুর গ্রামের মৃত আবিদ আলীর ছেলে কবির হোসেন জানায়, আমি বাড়ি থেকে বাজারে আসার পথে হানিফ এক ব্যাক্তির সাথে মারামারি করলে আমি তাদেরকে ছাড়িয়ে নেই। কেন ছাড়িয়ে নিলাম সে জন্য হানিফ ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে পিছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমাকে দির্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিচার দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।
একতা বাজারের ফল দোকানী হুমায়ূন কবির জানান, আমার দোকানে বিভিন্ন সময় বাকি থেয়ে আর টাকা দিত না। টাকা চাইলে আমাকে মারার জন্যহুমকি-দমকী দিত। এক পর্যায় আমাকে প্রচন্ড রকমের মারধর করে। আমি সজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজস আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি কারায়। পরিশেষে আমি স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়ে ভয়ে কেউ বিচার করতে না চাওয়ায় কোর্টে মামলা দায়ের করি। মামলার প্রেক্ষিতে সে ৩/৪ মাস জেল খেটে পুনঃরায় জামিনে এসে আবারও আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এছাড়া সে আরোও বেপরোয়া হয়ে এলাকায় তান্ডব চালায়।
গত রমজানে তার চাচা শফিক তপাদারের স্ত্রী রেহানাকে প্রচন্ড রকমের মারধর করে হাত ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় শফিক তপাদরের ছেলে মাইনুদ্দিন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ করে। থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তেমন কোন আ্মলে নেয়নি। ফলে হানিফ আরো ক্ষিপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে উঠে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত হানিফ তার মা-বাবাকে প্রায়ই মারধর করতো। তার অত্যাচারে তার মা বাবা ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতো।
তাৎক্ষনিক পুলিশ আরিফ তপাদার ও মামুন তপাদার নামে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখিত ঘটনা প্রবাহ বের হয়ে আসবে বলে অনেকেই জানান। উল্লেখ্য গত ৪ জুলাই/২০১৯ইং বৃহস্পতিবার উপজেলার মূল পাড়া গ্রামের তপাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন হানিফের মা খাদিজা বেগম ও বাবা লোকমান জানান, আমার ছেলেকে মারধরের সময় আমরা কেউ ঘরে ছিলামনা। তারা আরোও জানান, ছেলেকে ওরা ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে বেদড়ক মারধর করে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় । তাৎক্ষনিক তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে গেলে ডাক্তার পরিস্থিতি আশংকাজনক দেখে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দিলে চাঁদপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় হানিফ ।
অপরদিকে আসামী পক্ষ আরিফের বাবা আয়ূব আলী বলেন, গত ৪ দিন আগে নিহত হানিফ তার অসহায় ও প্রতিবন্ধী চাচা ছলেমান কে পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া হাতপা বেঙ্গে দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে। চাচা ছলেমানকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে হানিফকে পিটিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুনুরশিদ জানান, আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ এসেছে, কিন্তু হানিফ কোনভাবেই তোয়াক্কা করেনি। তাই কোন বিচার করতে পারিনি। আরোও জানান, অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে নিহত হানিফের বিরুদ্ধে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নাছিরউদ্দিন জানান, ১৩ জনকে আসামী করে শুক্রবার থানায় মামলা করেছে নিহতের বোন।
ঘটনার বিষয়ে থানা ওসি আব্দুর রকিব জানান,থানা পুলিশ আরিফ ও মামুনকে আটক করেছে। আটককৃতদের ৭দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে।