ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা, ডাক্তার কেউ আছেন তো আবার কেউ নেই

শিমূল হাছান
ডাক্তার স্বপ্লতার কারনে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক সময়ে ডাক্তার ছিলেন ৩৭ জন। আর এখন ওই কমপ্লেক্সেই কার্যত ৩জন ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে করে রোগী সাধারনের দুর্ভোগ বেড়েছে চরম আকারে।
জানা গেছে, ফরিদগঞ্জেরই স্বাস্থ্য সেবা খাতে প্রতিমাসে সরকারের ব্যায় হচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এমন অবস্থায় এই হাসপাতালে নেই গাইনী বিভাগের মহিলা ডাক্তার ও কনসালটেন্ট। ডাক্তার কেউ আছেন ছুটিতে, আবার কেউ আছেন প্রেষনে অন্যত্র কিংবা ছুটি ছাড়াই রয়েছে অনুপস্থিত।
প্রায় ৫ লাখ জনসাধারন অধূষিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাগজে কলমে কার্যত ডাক্তার আছেন ডেন্টাল ও হোমিও ডাক্তার মিলে মাত্র ৫ তিনজন। এর মধ্যে বিশেষ করে ঘুরে ফিরে ডেন্টাল ও হোমিও ডাক্তার ছাড়া বাকী তিন জনকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। বর্তমানে কয়জন ডাক্তারের কর্মস্থল ফরিদগঞ্জে থাকলেও এখন প্রেষনে অন্যত্র তারা দায়িত্ব পালন করছেন। আবার কেউ আছেন ছুটিতে কিংবা রয়েছেন হাসপাতালে অনুপস্থিত। এ যেন গোয়ালের গরু কেতাবে আছে গোয়ালেই নেই এর মতো অবস্থা। একজন অফিস সহকারী দুলাল জানান, এই হাসপাতালেই এক সময়ে ডাক্তার কর্মরত ছিলেন ৩৭ জন।
অপরদিকে উপজেলা ১৫টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ২টি কেন্দ্রে ডাক্তার থাকলেও কর্তৃপক্ষের ডাকে সাড়া দিতে তারা আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রের ভেতরই দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ফরিদগঞ্জের স্বাস্থ্য সেবার কার্যত নাজুক অবস্থা নিয়ে সর্বত্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খোজ নিয়ে জানা, গেছে ঘনবসতি পূর্ন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে লোকসংখ্যা প্রায় ৫ লাখেরও বেশী। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ শতাধিক। গত মার্চ মাসে এই হাসপাতালে বহিরাগত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭শ ১৮ জন আবার ওই মাসে রোগী ভর্তিও সংখ্যা ছিল ১হাজার ১শ ১১ জন।
চিকিৎসা সেবা দিতে এই উপজেলায় ১৫টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার রয়েছে। বাকী ১৩ টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘ দিন থেকে কোন ডাক্তার নেই। যে কারনে প্রতিদিনই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বহিরাগত রোগীর সংখ্যা ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে বাড়ছেই। এমন অবস্থায় ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে মোট ১২জন ডাক্তারের স্থলে বর্তমানে আছে ডেণ্টাল ও হোমিও ডাক্তার মিলে মাত্র ৫ জন । এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা নিতে বহু দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্বপ্ল সংখ্যক ডাক্তারগন তাদের রোগীদের মাঝে চিকিৎসা সেবা দিতে হিম শিম খেতে দেখা যাচ্ছেু ।
ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, এখন এই হাপাতালে এসে ডাক্তারের জন্য অনেকক্ষন অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে বেগ পেতে হয়্ । আগে এমন দূর্ভোগ পোহাতে হতো না।
তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকার কথা থাকলে ডাক্তার মৌসুমী আক্তার তিনি মূলত প্রেষনে বর্তমানে তার দায়িত্ব পালন করছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে, ডাক্তার শোভন দাস তিনিও প্রেষনে দায়িত্ব পালন করছেন চাঁদপুর মেডিক্যাল কলেজে, ডাক্তার সৈয়দা সাবরিনা ছিদ্দীকা প্রেষনে আছেন বর্তমানে ঢাকার মুগদা মেডিক্যাল কলেজে, ডাক্তার নাদিয়া ফেরদৌস গত বছরের ৫ ফেব্্রয়ারী থেকে কোন ছুটি না নিয়েই অনুমোদিত ভাবে রয়েছে অনুপস্থিত। ডাক্তার মাহমুদা বেগম গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে তার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছে। ডাক্তার ইমতিয়াজ দোলনকে কড়ইতলী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করা হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের ডাকে ডাঃ দোলনকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ইমার্জেন্সী ডিউটি পালন করতে বাধ্য হন। ডাক্তার মোজাম্মেল হোসেনকে বদলি করা হয়েছে হাইমচর উপজেলায় ।
একটি সুত্র পরিসংখ্যান দিয়ে জানায়, ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্য খাতে প্রতিমাসে সরকরের ব্যায় হয় প্রায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। অথচ এখন ডাক্তার স্বপ্লতার কারনে চিকিৎসা সেবা প্রদান নিয়ে নানাহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।
উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার মোঃ আছাদুজ্জামান জুয়েল গত শনিবার ৬ এপ্রিল এ প্রতিনিধিকে বলেন, এখানে গড়ে প্রতিদিনই ৩ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। বর্তমানে ডাক্তার স্বপ্লতার কারনে রোগীদের মাঝে কাংক্ষিত সেবা দিতে আমাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচে¦ছ। তবে যত কষ্টই হউক কোন রোগীই যেন চিকিৎসা সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের তদারকিতে আমাদের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই।
এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিল্পনা অফিসার ডাক্তার জাহাংগীর আলম শিপন স্বপ্ল সংখ্যক ডাক্তারের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে বলেন,স্বপ্ল সংখ্যক ডাক্তার থাকার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। হয়তো সহসাই জনস্বার্থে ডাক্তার সংকটের বিষয়টি সুরাহা হতে পারে বলে তিনি আশ^স্ত করছেন।