ফরিদগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ॥ আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদগঞ্জে এক মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নূরের রহমান সুমন পাটওয়ারী গুরুত্বর আহত হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা প্রকাশ করেছেন। গতকাল শনিবার বিকালে উপজেলার বদরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভূক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, বেলা চারটা নাগাদ নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত. গোলাম রহমান পাওটয়ারীর ছেলে সুমন পাটওয়ারী (৪০)। এ সময় প্রতিবেশী রশিদ পাটওয়ারীর ছেলে সুজন পাটওয়ারী (৩৫) একটি রাম দা উঁচিয়ে সুমন পাটওয়ারীর শয়ন কক্ষে ঢুকে তাকে কোপানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সুমন পাওটয়ারী ডাক চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পেছন থেকে সুজন পাটওয়ারী দৌড়ে তাকে রামদা দিয়ে কোপ দেয়। সে হাত দ্বারা প্রতিহত করলে হাত কেটে যায়। সুমন পাটওয়ারীর স্ত্রী এগিয়ে গেলে তাকেও দা দ্বারা কোপানোর চেষ্টা করে। এ সময় বাড়ি ও আশেপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে সুজন পাটওয়ারী দরজা জানালা এলোপাথাড়ি ভাংচুর করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে আহত সুমন পাটওয়ারীকে স্থানীয় জনগন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনার কিছুক্ষণ পর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে সকলকে শান্ত থাকতে ও প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন।
এ ব্যপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবলীগ নেতানূরের সুমন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, সুজন পাটওয়ারীর বাবার সঙ্গে তার জমিজমার বিরোধ রয়েছে। তার জের ধরে সুজন পাটওয়ারী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা করেছে।
ঘটনাস্থলে (বিকাল সাড়ে চারটায়) উপস্থিত সুজন পাটওয়ারীর বাবা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ পাটওয়ারী জমিজমার বিরোধের কথা স্বীকার করে বলেছেন ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে দেনদনবার চলছে। তিনি বলেছেন, তার ছেলে অবাধ্য।
এ ব্যাপারে এসআই ফারুক জানিয়েছেন, সুমন পাটওয়ারীর স্ত্রী মোহছেনা আক্তার বাদী হয়ে সুজন পাটওয়ারীকে প্রধান আসামী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।