ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে বেদম মারধর 

 

মো. শিমুল হাছান .

ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন  ব্যক্তিকে বেদম মারধর করেছে কয়েকশত উচ্ছৃংখল জনতা। অল্প  কিছুক্ষণ সময় পেলে উত্তেজিত জনতা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলত। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে রায়পুর উপজেলামুখি নারিকেলতলা এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে গতকাল বুধবার বিকালে।

এলাকাবাসি জানান, সড়ক ধরে হাঁটছিলেন এই ব্যক্তি। প্রথমে তার পিছু নেয় কয়েকজন কিশোর। এরপর কানাঘুষা হতে হতে তার আশেপাশে জড়ো হয় কয়েক শ’ জনতা। তাকে এ কথা সেকথা জিজ্ঞেস করে। এক পর্যায়ে ছেলেধরা সন্দেহে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল জনতা। তারা তাকে বেদম দারধর করে। সংবাদকর্মীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এস.আই. সুমন্ত ও এ.এস. আই গোলাম রছুল, ওই ব্যক্তিকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান । সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত ব্যক্তি অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি দাবী করেছেন, রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার কলাবানিয়া গ্রামে তার বাড়ি। তার নাম জাহাঙ্গীর আলম। পিতার নাম আব্দুল গণি।

এদিকে, এলাকার কয়েক ব্যক্তি এ ঘটনাকে খুবই নক্কার জনক  বলে মন্তব্য করেছেন। এমন অমানুষিকভাবে না পিটিয়ে প্রয়োজনে তাকে পুলিশে দেয়া যেতো বলেও তারা মন্তব্য করেন।

এ ব্যপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ আব্দুর রকিব জানান, আমরা সংশ্লিষ্ট জেলার থানা পুলিশের মাধ্যমে সেখানকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। এখনও যোগযোগ স্থাপন করতে পারিনি। যদি তার উপযুক্ত পরিচয় পাওয়া না যায় তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে প্রয়োজনে থানা পুলিশেকে খবর  দিন, আইন নিজ হাতে তুলে নেবেন না। তিনি আরও বলেছেন, গত কয়েকদিনে কারও শিশু সন্তান হারিয়ে গেছে বলে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ ও হয়নি। কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করেন।