ফরিদগঞ্জে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ॥

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার জের ধরে রাস্তায় টায়ার জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন, সংঘর্ষ ও বসতবাড়ি ভাংচুুরের ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সুজন। বিক্ষুব্ধদের দাবী- কমিটি গোপনে মনগড়া ও বিধি বহির্ভূতভাবে করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ জুন) রাত ১০ টায় ১৫নং রূপসা (উঃ) ইউনিয়নের দক্ষিণ বদরপুর ব্রিজের কাছে ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার পর সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া, থানার ওসি মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ওই এলাকার ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীরা সাংবাদিকদের জানান, গত ১২ই জুন ১৫ নং রুপসা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত ওই কমিটি প্রকাশ পায় গত তিনদিন পূর্বে। এখবর পেয়ে পূর্বের কমিটির কিছু সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় বদরপুর ব্রিজের নিকট দুই ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ¦ালায় ও বিক্ষোভ করে।
উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মেম্বারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে বাকবিতান্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে জহিরুল ইসলাম ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেনের গালে চড় দেয় ও চেয়ার নিক্ষেপ করে। এতে ১৫নং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ এন শাকিল উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের গালে পাল্টা চড় মারেন। উভয়ের মধ্যে সংর্ঘষের একপর্যায়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সংঘর্ষ থামিয়ে জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এদিকে, এ ঘটনার পর রাত প্রায় সাড়ে এগারটা নাগাদ জহিরুল ইসলামের অনুসারীরা শাকিলের বাড়িতে হামলা করে। তারা শাকিলকে খুঁজে না পেয়ে ঘরের দরজা জানালা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে থানার ওসি ওই বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ঘটনা শুনেন ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।
পদ বঞ্চিত শাকিল এ প্রতিনিধিকে বলেন, সম্মেলন না করে অর্থের বিনিময়ে ও বিধি বর্হিভূতভাবে পকেট কমিটি ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। এর প্রতিবাদে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ করার সময় জহিরুল ইসলাম ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীরসহ আমাদের উপর হামলা ও অশ্লিল গালাগাল করে। ঘটনা শান্ত হয়ে যাওয়ার পরে রাত সাড়ে ১১টায় রূপসা উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইউনুছ মেম্বারের নেতৃত্বে আমাদের বসত বাড়িতে হামলা করা হয়। তারা ঘরের দরজা, জানালা, ফ্রিজ, টিভি ভাংচুর করেছে। এছাড়া তারা আমাকে না পেয়ে আমার শতবর্ষ বয়সী বৃদ্ধ দাদা শামছুল হক পাটওয়ারীকে মারধর ও পরিবারের নারী সদস্যদের লাঞ্চিত করেছে।
এদিকে, জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পূর্বের কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে মাদকের সাথে জড়িত থাকাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পূর্বের কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণ হয়ে যাওয়ার কারণে এমপির নির্দেশে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংর্ঘষের ঘটনায় ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া এমপির নির্দেশেনা অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইউনুছ মেম্বার বলেন, ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয়েছে। আমি ছাত্রলীগের ক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত করতে বদরপুর ব্রিজের কাছে গিয়েছিলাম।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুব আলম সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগ একটি বৃহত্তর ছাত্র সংগঠন। এখানে পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকবে। কোন ধরনের সংঘর্ষ প্রত্যাশিত নয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ফরিদগঞ্জের মাটি ও মানুষের নেতা ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া এমপির নিদের্শনা অনুসারে এখানে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা।
এদিকে, বসতবাড়িতে হামলার পরও হুমকি ধমকির শিকার শাকিলের বাবা আবুল কালাম পাটওয়ারীর আবেদন- “আমরা নিরাপত্তা চাই”।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শাহ আলম বলেছেন, এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।