ফরিদগঞ্জে আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ দুই গ্রুপের আহত- ২৫

মো. শিমুল হাছান:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের এমপি শফিকুর রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমান গ্রুপের অনুসারী কর্মী সমর্থকদের পরস্পর বিরোধী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ফরিদগঞ্জ থানার এস আই নাজমুল সহ দুই গ্রুপেরই কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। উক্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেছে।
প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী চলমান দুই গ্রুপের দফায় দফায় পাল্টপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের কারনে আজ বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত আইন শৃঙ্খলা উন্নয়ন সভাটি পন্ড হয়ে যায়। এমন উক্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে আতংকিত এলাকাবাসী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান পার্ট বন্ধ করে দেয়।।
তবে ইউএনও শিউলী হরি দাবী করছে, উক্তপ্ত পরিস্থিতির কারনে আইন শৃংঙ্খলা সভাটি আমি স্থগীত করেছি ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সুত্র জানায়, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজকের আইন শৃংঙ্খলা উন্নয়ন কমিটির সভায় যোগ দিতে ফরিদগঞ্জের এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমান সকাল ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে যান। এ সময় এমপির সাথে আসা দলীয় লোকজনও বাহিরে এমপি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি খাজে আহাম্মদ মজুমদারের নামে শ্লোগান দিতে থাকে। একই সময় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে উপস্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমানের অনুসারী নেতাকর্মীরাও উপজেলা চেয়ারম্যান রোমানের নামে শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ওই দুটি পক্ষই মুখোমুখী হয়ে মারমূখী হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের গ্রুপের নেতাকর্মীদের উপর জুতা নিক্ষেপ করা হয়। এর পরই ঘটনাস্থলের পাশে একটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটানো হয়। শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যেই বেপরোয়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ।
এমপির অনুসারী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, এমপি মহোদয় যেখানেই যাবে সেখানে তার সাথে দলীয় নেতাকর্মীরা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ওই সময় আমি ও খাজে আহামেদ মজুমদার সহ এমপি সাথে ইউএনও এর অফিস কক্ষে উপস্থিত ছিলাম । এ সময় বাহিরে থাকা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা হলো কেনো তার কারনটা বুঝতে পারলাম না।
উপজেলা চেয়ারম্যান অনুসারী জেলা পরিষদের সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, এমপির সাথে আমদের সাথে কোন বিরোধ নেই। তবে যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা রয়েছে, মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী সে যেই হউক না কেনো জনস্বার্থে তাকে বর্জন করতে হবে। সেই কারনে আইন শৃঙ্খলা সভায় এমপির সাথে থাকা একজন কুখ্যাত মাদক স¤্রাট খাজা আহামে¥দ মজুমদারকে এমপির সাথে দেখে দলীয় নেতাকর্মীরা তখন খাজাকে বের করে দেয়ার দাবী তুললে আমাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।
এ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরির কার্যালয়ে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এমপি শফিকুর রহমানের সামনেই বলেন, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজকের আইন শৃংঙ্খলা সভায় স্থানীয় এমপি মহোদয় উপস্থিত হচ্ছেন জেনে আমি ওই এমপির সম্মানে এখানে উপস্থিত হয়েছিলাম। কিন্তু এমপির অনুসারীরা অতর্কিত ভাবে উপজেলা প্রাঙ্গনে হট্টগোল সৃষ্টি করে। যা কোন ক্রমেই কাম্য ছিল না। তিনি আরো বলেন, তারপরও অনাকাংক্ষিত এ ঘটনার জন্য আমি এমপি মহোদয়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করার পরও তিনি আমার বিরুদ্ধে অহেতুক অসত্য কথা বলে পরিস্থিতি উক্তপ্ত করেছেন।

তবে একই কার্যালয়ে এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা সভায় যোগ দিতে আসার সময় দলীয় নেতাকর্মীরা আমার নামে ও খাজে আহাম্মেদ মুজমদারের নামে শ্লোগান নিয়ে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসছিল। এ সময় অতর্কিত ভাবে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক বেশ কয়টি কয়টেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে ।
এ খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে লাঠি চার্জ ও পরে বেশ কয়টি টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে উক্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়েছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি আজকের আইন শৃঙ্খলা সভাটি স্থগীত করতে বাধ্য হয়েছেন।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে চাঁদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রকিব সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।