ফরিদগঞ্জে আর্সেনিকমুক্ত সাড়ে ৮শ গভীর নলকূপ স্থাপন নিয়ে দু’পক্ষের টানাটানি চলছে ॥ ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ. 

মো.শিমুল হাছান:

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে আর্সেনিকমুক্ত ৮৪৪টি গভীর নলকূপ স্থাপন নিয়ে চলছে দুপক্ষের টানাটানি। একই সাথে নলকূপ স্থাপনের আশায় একটি চক্রের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। প্রতিটি টিউবওয়েলের জন্য সরকার ৬০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে । এই টাকার সাথে আবার প্রতিটি টিউবওয়েলের উপকার ভোগীরা ৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। কিন্তু সরকার প্রতিটি কলের জন্য ফি ৭ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিলেও একটি চক্র অফিস ম্যানেজের নামে জনগনের কাছ থেকে ১৫হাজার থেকে বিভিন্ন অংকের হাজার হাজার টাকা করে ঘুষ বানিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে ফরিদগঞ্জেরই সাবেক এমপি ড. শামছুল হক ভুঁইয়া বিভিন্ন আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের মাঝেই ওইসব ডিপ টিউবওয়েল বন্টনের জন্য এমপির সই স্বাক্ষর দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। যে কারনে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন তাদের চাহিদা মতো ওই টিউবওয়েল বন্টনের কোন সাহস করতে পারেনি। যার ফলে পরবর্তীতে আ’লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আবেদন নিবেদনের বিষয়টি বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। আবার কোন কোন ইউনিয়নে বরাদ্দ হওয়া নির্দিষ্ট টিউবওয়েলের চেয়ে বেশী নামের তালিকা দেয়ায় তা স্থাপন নিয়ে বিপাকে পড়েছে জনপ্রতিনিধিরা। অথচ নিয়ম রয়েছে যে প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা সভা করে লোকসংখ্যার চাহিদা মোতাবেক এইসব টিউবয়েলে বন্টন করবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তবে এ  ক্ষেত্রে এলাকার এমপি ওইসব টিউবওয়েলে বন্টনের ক্ষেত্রে সমন্ময়ক হিসেবে থাকবেন। নিয়ম নীতি উপেক্ষা করা বন্টন করা ওইসব টিউবওয়েল নিয়ে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন এখন পড়েছে বিপাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুৃক ক’জন জনপ্রতিনিধি, বলেন ১৫ ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা আর্সেনিকমুক্ত ৮শ ৪৪টি ডিপ টিউবওয়েল এমপি ড. শামছুল হক ভুইয়াই নিজেই বন্টন করে আমাদের কাছে তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। সরকারি নিয়ম মতে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন ওইসব ডিপ টিউবওয়েল বন্টন করার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে তা পরিবর্তন করার কোন ক্ষমতা নেই।

এদিকে বর্তমানে নব নির্বাচিত এমপি হলেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। এখনো ওইসব টিউবওয়েল স্থাপনের বিষয়ে কোন টেন্ডার কিংবা ওয়ার্ক ওর্ডার না হওয়ায় তা আপাতত বন্ধ আছে। সাবেক এমপি ডঃ শামছুল হক ভুইয়ার বন্টন করা টিউবওয়েল স্থাপন নিয়ে এখন কিংকর্তৃব্যবিমূড় অবস্থায় পড়ে আছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন।

এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী মোঃ শফি আহাম্মেদ বলেন, উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে আর্সেনিকমুক্ত ৮শ ৪৪টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য এখনো টেন্ডার হয়নি। তবে এগুলো স্থাপনের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আগে স্থান নির্ধারন পূর্বক এমপির সাথে সমন্ময় করে লোক সংখ্যানুপাতে তা বন্টনের জন্য সরকারী নিয়ম রয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ৮৪৪টি আর্সেনিকমুক্ত গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মধ্যে ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নে ৬৩, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নে ২৩টি, ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নে ৬২, ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নে ৬৩, ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নে ৫৯, ৬নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে ৫৩, ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে ৬৯, ৮নং পাইকপাড়া দক্ষিন ইউনিয়নে ৫৯, ৯নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৬২, ১০নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নে ৬২, ১১নং চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নে ৬৩, ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে ৪০, ১৪নং ফরিদগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নে ৪১, ১৫নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নে ৬৯ ও ১৬নং রুপসা দক্ষিন ইউনিয়নে ৫৬টি কল বরাদ্ধ দেয়।