প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে কর্মসংস্থানে চাকুরীস্থায়ী করনে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলীপী

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পিচরেইট কর্মচারী নিযুক্ত পুনরায় কর্মসংস্থানসহ চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলীপী প্রদান করা হয়েছে। গত ৩০ মে ২০১৮ চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের মাধ্যমে এই স্মারকলীপী দেওয়া হয়।

এত উল্লেখ করা হয়েছে, আমাদের উপরোল্লেখিত সূত্র মোতাবেক বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মিটার রিডিং গ্রহণ ও বিল বিতরণের জন্য নিয়োগ প্রদান করেন। আমরা পিচরেইট কর্মচারী নিযুক্ত মিটার পাঠকগণ বিগত ২০/৩০ বছর যাবৎ সৎ ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মিত ভাবে মিটার রিডিং গ্রহণ ও বিদ্যুৎ বিল বিতরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। যার মধ্যে অধিকাংশই পোষ্য ও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

আমরা রোদ, ঝড়, বৃষ্টি বন্যা সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ উপেক্ষা করে, দীর্ঘদিন উক্ত কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে দু-বেলা, দু-মুঠো ডাল ভাত খেয়ে মোটামুটি ভাবে দিন যাপন করে আসছি। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বহু লঘু-লাঞ্চনা উপেক্ষা করে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের স্বার্থে এই সীমিত বেতনেও কাজ করেছি। তারপরও আমরা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সিবিএ-বি/১৯০২ এর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

কিন্তু আজ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কারণে চাকরী স্থায়ী করনতো দূরের কথা ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান বিহীন হয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি। এদিকে আমরা বর্তমানে মধ্য বয়সী। নতুন করে কোথাও চাকরীতে প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। বে-সরকারী কোন প্রতিষ্ঠানও এই বয়সী কোন লোক নিয়োগ প্রদান করে না বিধায় আজ আমরা হতাশাগ্রস্থ, দিশেহারা ও পথহারা এবং কোন কাজকর্ম যোগাড় করতে পারছিনা বলে অনাহারে সন্তান-সন্ততি নিয়ে অত্যন্ত দুর্বিসহ জীবন যাপন করছি।

এদিকে না পারছি দিন মজুর কোন কাজ করতে। অথচ এতোদিন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের স্বার্থে দুয়ারে দুয়ারে হেঁটে মিটার রিডিং গ্রহণ ও বিল বিতরণ করেছিলাম। বি.উ. বোর্ডের সিস্টেম লস রোধের জন্য যথাথভাবে কাজ করছি। তারপরও সীমিত আয় নিয়ে কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু আজ কর্মবিহীন হয়ে পারছিনা সন্তান সন্ততির পেটের ক্ষুধা নিভৃত করতে কিংবা অসুস্থ্য বাবা মায়ের চিকিৎসা খরচ জোগাড় করতে। এদিকে চাকরী নেই বিধায় এলাকাবাসীর নিকট মুখ দেখাতে পারছি না।

আত্মসম্মান হারিয়ে আর্থিক অভাব ও মানসিক চাপে আমাদের আজ আত্মহননের উপক্রম বিধায় আপনার (প্রধানমন্ত্রী) স্মরণাপন্ন হলাম। কারণ গত ২৮/০২/১৮ইং তারিখে আমরা নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁদপুর বরাবর দরখাস্ত পেশ করি। উক্ত দরখাস্তের আলোকে দপ্তর প্রধান, প্রধান প্রকৌশলী বিউবো-অঞ্চলে কুমিল্লা বরাবর একখানা স্মারকলিপি অঃদাঃনং-১৪৬, তাং- ১৫/০৪/১৮ পেশ করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার একটু মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি পারে আমাদের শেষ জীবনের গতিবিধি ঠিক করতে। আপনার একটু স্বদিচ্ছাই পারে আমাদের পরিবার পরিজনদের মুখে হাঁসি ফোটাতে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা। আপনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উন্নতিকল্পে, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের জন্য যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন আমরা তার বিরুদ্ধে নই বরং আমরা প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে অত্র দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীনর নির্দেশ মোতাবেক সম্মানিত গ্রাহকদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করছি ও প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ করে যাচ্ছি।

আমরা আপনার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমরাও চাই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিস্টেম লস হ্রাস হোক এবং রাজস্ব খাতে উন্নতি লাভ করুক। সেই সাথে আমাদের ও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক। যেহেতু আপনি বাংলাদেশের বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য প্রতিশূতিবদ্ধ।