জেলেদের পুলিশের উপর হামলা । এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ

জাটকা নিধন বিরোধী অভিযান চলাকালে অভিযানকারী দলের উপর জেলেরূপী দুর্বৃত্তরা একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা টাস্কফোর্সের উপর হামলা, মতলব উত্তরে ইউএনও’র নেতৃত্বে অভিযানকারী দলের উপর হামলা এবং পুলিশের উপর হামলা। এভাবে একের পর এক ওই জেলেরূপী সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে এবার তাদের হামলার শিকার হয়ে মেঘনার অতল গভীরে নিখোঁজ হলো মোশারফ হোসেন নামে হাইমচর থানার এক পুলিশ কনস্টেবল। অথচ হাইমচর থানা পুলিশের এই অভিযানকারী দলটি যাচ্ছিলো ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ধরতে। কিন্তু তখন নদীতে জাটকা নিধনকারী দুর্বৃত্ত জেলেরা পুলিশকে দেখে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর।

হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মহসীন আলম জানান, গত ২৪ এপ্রিল থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে ২৬ এপ্রিল শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ধরতে হাইমচরের নীলকমল ইউনিয়নের চরকোড়ালিয়ায় ট্রলারযোগে মেঘনা পাড়ি দিচ্ছিলো। পথিমধ্যে হাইমচর কলেজঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে পুলিশকে দেখে জাটকা ধরতে থাকা অসাধু জেলেরা পুলিশের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। জেলেদের প্রত্যেকের কাছে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিলো। সে অস্ত্র নিয়ে তারা পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌযান পুলিশের ট্রলারের উপর উঠিয়ে দেয়। আর তখনই মোশারফ হোসেন নামে হাইমচর থানার এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ হন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল, পুলিশ ও নৌ-পুলিশ নদীতে গতকাল সারাদিন খোঁজ করলেও গতকাল রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোশারফের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিকে নিখোঁজ হওয়া পুলিশ কনস্টেবল মোশারফ হোসেনের স্ত্রী শামীমা আক্তারও একই থানার অর্থাৎ হাইমচর থানার মহিলা পুলিশ কনস্টেবল। তাঁদের ৪ বছরের একটিমাত্র পুত্র সন্তান রয়েছে।

এ ঘটনার পর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী হাইমচরে গিয়েছেন এবং ঘটনার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছেন।