জাবেদ পাটোয়ারী আইজিপি হওয়ার আদেশপত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন।

আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করবেন পুলিশের বর্তমান আইজি এ কে এম শহীদুল হক। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে নতুন আইজিপি কে হচ্ছেন_এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে জনসাধারণের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা ও কানাঘুষা। ধারণা করা হচ্ছে, শহীদুল হকের পর নতুন আইজিপি হচ্ছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। চাঁদপুরের এই কৃতীসন্তান পুলিশের গ্রেড-১-এর কর্মকর্তা। বিভিন্ন মহলের পর্যালোচনায় আইজিপি নিয়োগে তাঁর নামটিই জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। অবশ্য তাঁর পাশাপাশি আরো তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার নামও রয়েছে আলোচনায়। এঁরা হলেন : পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোঃ মোখলেসুর রহমান এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া। তবে আলোচনায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে একমাত্র জাবেদ পাটোয়ারী হলেন বর্তমান আইজিপির ব্যাচের। এছাড়া বিসিএস ৮৪তম ব্যাচের মেধাক্রমেও এক নম্বর কর্মকর্তা তিনি। সচিব পদমর্যাদাধারী জাবেদ পাটোয়ারীর চাকরির মেয়াদ ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। ১৯৮৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেয়া এ কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থ প্রকাশে অর্থবহ অবদান রেখেছেন। তিনি এ গ্রন্থে উল্লেখিত শেখ মুজিবুর রহমানের জেলজীবনের বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আইজিপি নিয়োগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, স্বাভাবিক নিয়মেই আইজিপি নিয়োগ দেয়া হবে।

বিশ্বস্ত সূত্রে সর্বশেষপ্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী আইজিপি হওয়ার আদেশপত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। আজ এ বিষয়ে জিও অর্থাৎ সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে।

উল্লেখ্য, জাবেদ পাটোয়ারীর জন্ম চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এক গ্রামে। তাঁকে শৈশব-কৈশোরে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে। বাবুরহাট হাই স্কুলে পড়াকালীন সময়ে তিনি প্রতিদিন পাঁচ মাইল হেঁটে স্কুলে আসতেন। এখান থেকেই এসএসসি পাস করার পর তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। একটি ভাঙ্গা সাইকেলে করে তিনি কলেজে যাতায়াত করতেন। এইচএসসি পাসের পর জাবেদ পাটোয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ভর্তি হন। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশের চাকুরিতে যোগদান করেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, দক্ষতার কারণে তিনি বর্তমানে স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর আইজিপি হওয়ার সম্ভাবনার খবরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেলিত চাঁদপুরবাসী।