চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে ফের মেঘনার ভাঙ্গন॥ এক’শ মিটার এলাকার ব্লকবাঁধ বিলীন

স্টাফ রিপোর্টার:॥ চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধে আবারো মেঘনার ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের ব্যবধানে শহরের পুরাণবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার প্রায় এক’শ মিটার আরসিসি ব্লকবাঁধ নদীতে ধসে গেছে। নতুন করে নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। চাঁদপুর নদী ভাংগন প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্টু গাজী ও চাঁদপুর চেম্বার পরিচালক গোপাল সাহা জানান, শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার এলাকার প্রায় ১১’শ মিটার বাঁধের রাম ঠাকুর মন্দির,পুরাণবাজার মোলহেড,দক্ষিণ বাজার,হরিসভা ও রনাগোয়াল বকাউল বাড়ি পর্যন্ত এ কয়েকটি পয়েন্টে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন। এখানের দুটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ সংরক্ষন কাজ চলমান থাকার মধ্যেও নতুন করে ভাংগন দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত ব্লক এবং বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা না হলে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকার বিরাট জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক বিশল চৌধুরী জানান,বুধবার বেলা ১২টার পর থেকে হরিসভা মাষ্টার বাড়ির পেছনের শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা যায়। পরে কয়েক সারির ব্লক বাঁধ নদীতে বিলীন হয়। এ পরিস্থিতিতে পুরাণবাজার মধ্য ও পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকা এখন নদী ভাংগনের মুখে রয়েছে
পানি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন, বর্ষার পানি প্রবাহের সাথে সাথে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ঘেঁষে প্রবল ঘূর্ণিস্রোত বইছে। ¯্রােতের তীব্রতায় পুরাণবাজার হরিসভার ডাউনে ৬০/৭০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙ্গন বিষয়টি উধর্বতন কর্তপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকও মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংরক্ষণে ব্লক ফেলার ব্যবস্থা নিচ্ছি।তিনি আরো জানান,২০০৫-২০০৬ সালের পর চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ সংরক্ষনে বরাদ্দ পাওয়া যায়নি ,তাই ম্যাজর কোনো কাজ হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি নদী ভাংগন থেকে চাঁদপুর শহরকে রক্ষা বিক্ষিপ্ত কোনো কাজ নয়, স্থায়িভাবে রক্ষার পরিকল্পিত প্রদক্ষেপ নেয়া খুবই দরকার।বর্তমানে বড় ষ্টেশনের মোলহেড থেকে পুরাণবাজার হরিসভা-বকাউলবাড়ি পর্যন্ত শহর রক্ষা বাধের এখানে মেঘনার পানির সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৭০ ফিট। বাঁধ ঘেঁষে ঘূর্নি¯্রােত এবং উল্লেখিত এলাকায় পানির গভীরতা অপ্রত্যাশিত হবার কারণে এ ভাংগন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদশীরা।এলাকাবাসী জানায়,প্রতি বছর বর্ষা আসলেই নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কি কাজ করায় তাও বোধগম্য নয়। এ বছর নদীর পরিস্থিতি ভয়াবহ। বড় ধরনের ভাংগন শুরু হবার আগেই ব্যবস্থা নিতে স্থানিয় সংসদ সদস্য ডা.দীপু মনিসহ সরকারের উধর্বতন কর্তৃপক্ষেকের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন ভাঙ্গন কবলিত শহরবাসী।
শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, নদী ভাংগতেছে খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আমরা চাঁদপুরে যারা আছি,সবাই সেখানে গিয়াছি এবং পর্যবেক্ষন করে জরুরী প্রদক্ষেপ হিসেবে আমাদের স্টকে থাকা ব্লক ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে।