চাঁদপুর শহরে ময়লা আবর্জনার স্তূপ দুর্গন্ধে দুর্বিষহ অবস্থা

পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের জন্যে কর্মবিরতি অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে ১৪ জুলাই থেকে এ কর্মবিরতি শুরু হয় । এদিন থেকে দেশের ৩২৮টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়কজুড়ে অবস্থান নেন। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেলে আন্দোলনরত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোনো আশ্বাস নয়, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ছাড়া তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার রাজপথে প্রেসক্লাবের সামনেই অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা ও পেনশন প্রদানের দাবিতে তাদের এ আন্দোলন।

এদিকে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ আন্দোলনের ফলে শুধুমাত্র পানি সরবরাহ ব্যতীত অন্য সকল সেবা বন্ধ রয়েছে । যার কারণে পৌরবাসীর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ ব্যহত হচ্ছে । মানুষ পৌরসভায় নানা কাজে এসে ফেরত যাচ্ছে । তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে শহরের ময়লা-আবর্জনার অবস্থা। এই কর্মবিরতির ফলে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কাজও বন্ধ রয়েছে। ফলে পুরো শহর যেনো ময়লা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক, শাখা সড়ক, পাড়া-মহল্লার অলিগলি সর্বত্র এখন ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। প্রতিটি মার্কেট ও দোকানের সামনে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। দুদিনের ময়লা জমে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর ডাস্টবিনগুলোর অবস্থা তো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে ভ্যান গাড়িতে করে ময়লা এনে ডাস্টবিনগুলোতে ফেলছে। আর ডাস্টবিনের ময়লা অপসারণ না করায় এখন ডাস্টবিন ছাপিয়ে ময়লার স্তূপ রাস্তায় এসে পড়ছে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা এখন ময়লা ফেলছে রাস্তার উপর। গত দুদিনের ময়লা জমে ভয়ানক দুর্গন্ধে শহরের পরিবেশ দুর্বিষহ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল চাঁদপুর শহরের জনবহুল স্থান মাতৃপীঠ স্কুল মোড় লাগোয়া অনন্যা সুপার মার্কেটের বিপরীতে যে বিশালাকার ডাস্টবিনটি রয়েছে, সেটির ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। ডাস্টবিনের সাথেই থাকা রাস্তার প্রায় অর্ধেকটা ভরে গেছে ময়লার স্তূপে। যানবাহনসহ পথচারীদের সে এলাকা পার হতে নিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। নাক চেপেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। আর মাছির ভনভনানি তো আছেই। এভাবে পৌর ঈদগাহ সংলগ্ন ব্রিজের নিচে, ইলিশ চত্বর মোড় সংলগ্ন ক্যাফে ঝিলের সামনে, লন্ডনঘাট এলাকা, ঘোষপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন ডাস্টবিন, সরকারি মহিলা কলেজের রাস্তার মাথার ডাস্টবিনসহ শহরের আরো যেসব জায়গায় ডাস্টবিন রয়েছে, সবগুলোর চিত্রই ওই রকম ভয়াবহ অবস্থা।

জানা গেছে যে, পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা পৌরসভার স্থায়ী স্টাফ না হওয়ায় তারা এ আন্দোলনের আওতায় পড়ে নি। তারপরও তাদের কাজ কেনো বন্ধ রয়েছে এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা গেলো যে, এদেরকে পরিচালনার দায়িত্বে যিনি আছেন, পৌরসভার জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচ্ছন্ন শাখার সিআই অরূপ কুমার শ্যাম আন্দোলনে থাকায় এবং ময়লা পরিবহনের গাড়ির চালকরা আন্দোলনে থাকায় ডাস্টবিন থেকে ময়লা অপসারণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের সভাপতি কাউন্সিলর ফরিদা ইলিয়াছের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বাসা বাড়ি থেকে ভ্যান গাড়িতে করে ময়লা আনছে ঠিকই, কিন্তু ময়লা বহনের গাড়ির চালকরা আন্দোলনে যাওয়ায় ডাস্টবিন থেকে ময়লা সরানো যাচ্ছে না। যে কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের মেয়র মহোদয় ঢাকা ছিলেন। আজ তিনি অফিসে আসবেন। তখন তাঁর সাথে ময়লা অপসারণের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবো। আশাকরি একটি ব্যবস্থা করতে পারবো।