চাঁদপুর বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনে তৈল বিক্রিতে প্রতারণা।। তৈল কম দিলেও মেমো বেশি টাকার

শাহরিয়ার খান কৌশিক,

চাঁদপুর শহরের পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ড বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রিতে ব্যাপক প্রতারণা করার খবর পাওয়া গেছে। তেল কম দিয়ে রিসিডে টাকার অংক বেশি লিখে ড্রাইভার ও ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দীর্ঘদিন যাবৎ যানবাহন মালিকদের পকেট কেটে প্রতারণা করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ফিলিং স্টেশনের রিসিভ দেখে যানবাহন মালিকরা তেলের টাকা পরিশোধ করলেও প্রকৃতপক্ষে সেই টাকার তেল গাড়িতে ঢুকছে না। এতে করে প্রতারিত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের মালিকপক্ষরা।
এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যানবাহন চালকদের সাথে সম্পর্ক করে পেট্রোল পাম্প মালিক পক্ষ ও ম্যানেজারা দিনের পর দিন এভাবে যানবাহনের তেল কম দিয়ে বাড়তি টাকা নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সরকারী ও বেসরকারি গাড়ি থেকে তেল চুরির সাথে জড়িত রয়েছে চালক,পেট্রোল পাম্প ম্যানেজার ও মালিকপক্ষরা এমনটাই জানিয়েছেন চাঁদপুরের বেশ কয়েকজন যানবাহন চালক।
এরকম একটি তেল চুরির দৃশ্য ধরা পড়ে বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুরের ১ গণমাধ্যম কর্মীর পিকআপ গাড়ি তেল আনতে যায় বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনে।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ও চালকের সমন্বয়ে তেল চুরি ঘটনাটি হাতেনাতে ধরার জন্য ওই ফিলিং স্টেশনে পিকআপটিকে তেল আনতে পাঠায়। এ সময় পিকআপ এর মালিক গণমাধ্যমকর্মী তার মোবাইল বিকাশ থেকে ১০০০ টাকা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহ আলমের মোবাইলে পাঠায়।
তাকে ফোন করে পরিচয় না দিয়ে ১০০০ টাকার তেল গাড়িতে দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু ওই গাড়িতে ৯০০ টাকার তেল দিয়ে ১০০টাকা ডাইভার ও ম্যানেজার ভাগ করে নেয়। বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহ আলম তেল কম দিয়ে রিসিডে ১০০০ টাকা উল্লেখ করে। তেল দেওয়ার পর এর পিছন দিয়েই গাড়ির মালিক ওই গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত হয়ে দেখে তেল কম দিয়েছে কিন্তু রিসিডে টাকার অংক বেশি লিখেছে।
নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের কাছে ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অশোভন আচরণ করে। বলেন চালক কে নিয়ে আসেন, তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার সাথে কিসের কথা। টাকা ১০০০ না ১০ হাজার টাকা লিখেছি সমস্যা কোথায়।

এর কিছুক্ষণ পরেই বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক ফারুক খানের বড় ভাই ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা খান বাহাদুর এসে উপস্থিত হয়।
এ সময় চুরির ঘটনাটি ও প্রতিনিহত তেল কম দিয়ে রিসিডে বেশি লিখে যানবাহন মালিকপক্ষের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ পায় তিনি।
এই ঘটনার আলোকে মালিকপক্ষ ওয়ার্ড কাউন্সিলর খান বাহাদুর এই প্রতিবেদককে জানায়, কি করব পেট্রোল পাম্প চালাতে হলে চালকদের কথা শুনতে হয়। না শুনলে তারা অন্য পাম্প থেকে তেল নেয়। ম্যানেজার সাংবাদিকের গাড়ি জানলে এরকম ঘটনা ঘটতো না। পরবর্তীতে ফোন করে জানিয়ে দিবেন তাহলে তেল কম দিবে না। এবারের জন্য ক্ষমা করে দেন ভুল হয়ে গেছে আর ভুল হবেনা।
এদিকে একই ভাবে ঘটনার একদিন পূর্বে সেই গণমাধ্যম কর্মীর তার পিকআপ গাড়িটি বাবুরহাট ফিলিং স্টেশনে ৩০০০ টাকার তেল আনতে পাঠায়। কিন্তু সেই টাকার তেল না দিয়ে ২০০০ টাকার তেল দেয়। তেলের হিসাব না পেয়ে ঘটনাটি অনুসন্ধান করতে পরদিন গাড়িটি সেই পাম্পে পাঠিয়ে চুরির ঘটনাটি হাতে নাতে প্রমাণ পায়।
একটি সূত্র জানায়, চাঁদপুরে যে কয়টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে সবকটিতেই এভাবে চালক ও ম্যানেজারের সমন্বয়ে তেল চুরি করছে। যে সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসব ফিলিং স্টেশন থেকে মাসিক তেল নিচ্ছে সে সকল গাড়ি চালকরা তেল কম নিয়ে বাকি তেল পাম্প মালিকের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। কিন্তু তেলের রশিদে সঠিক দাম লিখলেও প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পেট্রোল পাম্প মালিকরা।
এদিকে গাড়ি চালকরা গাড়ি থেকে তেল চুরি করে সেই তেল আবার পাম্প মালিকদের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করছে।
এছাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিকরা তেলের পরিমাপে করছে ভেজাল। সঠিক পরিমাণে তারা তেল দিচ্ছে না করছে প্রতারণা। এসকল ফিলিং স্টেশন এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখা ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন প্রতারিত হওয়া যানবাহন মালিকপক্ষরা।