চাঁদপুর পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে……

1_29615স্টাফ রিপোর্টার:

তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প-৩ (টএওওচ-৩)-এর আওতায় নগর সমন্বয় কমিটি (ঞখঈঈ)-এর সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদপুর পৌরসভার আয়োজনে চাঁদপুর পৌর পাঠাগারে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপ্রধানের বক্তব্য রাখেন মেয়র আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি পৌরবাসীর জন্যে সুখবর রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে, আগামী জুনের পূর্বেই সকল রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন সম্পন্ন হবে।

তিনি টিএলসিসি সভার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমরা টএওওচ-২ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সফলভাবে পরিসমাপ্তি ঘটাতে পেরেছি। চাঁদপুর পৌরসভা এ প্রকল্পে অন্যান্য পৌরসভার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে। আমরা দাতা সংস্থার কাছে দাবি জানিয়েছিলাম, আমরা যারা প্রকল্পের কাজে সফল হয়েছি আমাদেরকে যেনো টএওওচ-এর তৃতীয় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমাদের দাবির মুখে বাংলাদেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ২০টি পৌরসভাকে ইউজিআইআইপি-এর প্রকল্প-৩-এর আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা ১টি। এ প্রকল্পের মেয়াদ ৬ বছর। এ প্রকল্পের আওতায় রাস্তাঘাট, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নমূলক কাজে আমরা ৬০ কোটি টাকার মতো ব্যয় করতে পারবো। তবে প্রকল্পের শর্ত হলো, প্রথম টার্ম ভালো করতে পারলে দ্বিতীয় টার্ম, দ্বিতীয় টার্ম ভালো করতে পারলে তৃতীয় টার্মের টাকা পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির অর্থ-মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি টার্মের মেয়াদকাল ২ বছর করে। আর এক টার্মের অর্থ ছাড় হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা করে। আশা করি আমরা তা পারবো। আমাদের কাজের জবাবদিহিতা আছে, আছে কাজের স্বচ্ছতা ও সফলতা।

পৌরসভার যানজট নিরসনে লিংকরোড নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ, বকুলতলা সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করে যান ও পথ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা দূর করা, ব্যাটারীচালিত রিঙ্া একেবারে বন্ধ করে দেয়া, নতুনভাবে অটোবাইক চলাচলের লাইসেন্স না দেয়া, টেকসই মানসম্পন্ন রাস্তাঘাট নির্মাণে ঠিকাদারদের জবাবদিহিতা, বড় স্টেশন আউটার সিগন্যালের কাছে স্পীড ব্রেকার নির্মাণ করা, বস্তি এলাকার সাপ্লাইকলের বিল মওকুফ করা, পৌরসভার অনুমতি ব্যতীত পুকুর, কালভার্ট ভরাট না করা, গৃহীত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ও তার সমাধান চেয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জেলা ক্যাবের সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, চাঁদপুর সনাকের সভাপতি রোটাঃ কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তাক হায়দার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন, পৌর কর্মচারী সংসদের সভাপতি আব্দুর রশিদ সর্দার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আক্তার হোসেন বাচ্চু পাটওয়ারী, নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহাজাহান চোকদার, পৌর কাউন্সিলর মোঃ মাঈনুল ইসলাম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব অধ্যাপিকা মাসুদা নূর, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, টিএলসিসি সদস্য মোঃ শাহজাহান মাতাব্বর।

ইউজিআইআইপি প্রকল্প-৩-এর কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন পৌর নির্বাহী প্রেকৌশলী এইচ এম শামছুদ্দোহা। সভা পরিচালনা করেন পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মফিজ উদ্দিন হাওলাদার। পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহম্মেদ চাঁদপুর শহরকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আগামী জুন মাসের পূর্বেই শহরের সকল রাস্তা মেরামত করা হবে। রাস্তাঘাট নির্মাণসহ সকল উন্নয়নমূলক কাজে কোনোরূপ দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তিনি আরো বলেন, পূর্বে জনপ্রতিনিধিরা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করতেন। কাজের কোনোরূপ জবাবদিহিতা ছিলো না। আমি আপনাদের দ্বারা নির্বাচিত। আমি মনে করি আমার সকল কাজের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। তাই পৌরসভার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে টিএলসিসি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সদস্য হিসেবে আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে পৌরসভার সমস্যা নির্ণয় পূর্বক তা সমাধানে কাজ করছি। তাই কাজের মান উন্নয়নে আপনাদেরও ভূমিকা রয়েছে। তাই পরিকল্পিত উন্নয়নমূলক কাজের সফলতা আমাদের সকলের। আর ব্যর্থতাও আমাদের সকলের। তিনি ২টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ কাজের অগ্রগতির কথা জানান। এগুলো চালু হলে চাঁদপুর পৌরসভায় আগামী ৫০ বছরে আর কোনো পানির সমস্যা হবে না বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও আগামী বর্ষার পূর্বেই শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, জুলাই মাস থেকে প্রতিটি রাস্তায় এলইডি (সোডিয়াম) বাতি স্থাপন, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের আওতায় যে সকল অসহায় পরিবার ২শ’ টাকা করে সঞ্চয় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন তাদেরকে প্রতিমাসে পৌরসভার পক্ষ থেকে নগদ ১শ’ টাকা প্রদান পূর্বক ৩শ’ টাকা সঞ্চয় করার জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে। পৌর মেয়র আরো জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগীয় শহরের বাইরে জেলা সদরের ৫টি পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভার নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।