চাঁদপুর দেবপুর গ্রামে পাষন্ড বাবা দুই সন্তান ও স্ত্রী’কে খুন করে নিজেও ফাঁসিতে ঝুললো

রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে এক পাষান্ড স্বামী তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আতœহত্যা করেছে। রোববার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর রামপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের মাইনুদ্দিন সর্দার (৩৫) পেশায় একজন দিনমজুর ছিল। সে মাদকও গ্রহন করতো। গত কয়েকদিন আগে তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মিথিলার কানের একটি সোনার দুল চুরি হেেয় যায়। চোর ধরার জন্য মাইনুদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও তার মা হাজীগঞ্জের বানিয়াপট্রিতে এক তান্ত্রিক হুজুরের কাছে যায়। ওই তান্ত্রিক জানায়, তার বাড়ির লোকজনই সোনার দুলটি চুরি করেছে। ্এ নিয়েই বড় ভাই জসিমের পরিবারের সদস্যদের সাথে তার দ্বন্দ্ব বাধে। মাইনুদ্দিন সন্দেহ করে, জসিমের মেয়ে রিয়া সোনার দুলটি চুরি করেছে। এ নিয়ে বিরোধের জের হিসেবে মাদকাসক্ত মাইনুদ্দিন রোববার রাতে প্রথমে তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তারকে পুকুরে নিয়ে চুবিয়ে হত্যা করে লাশ একটি বাঁশের সাথে লটকে রাখে। পরে ঘরে এসে পাঁচ বছরের মেয়ে মিথিলা ও এক বছর বয়সী ছেলে সিয়ামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজেও ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করে। আজ সোমবার ভোরে বাড়ির লোকজন ফজরের নামাজ পড়ার জন্য পুকুরে ওজু করতে গেলে সেখানে ফাতেমার মৃত দেহ দেখতে পেয়ে তার ঘরে যেয়ে আরো তিনজনের মৃতদেহও খুঁজে পায়। বিষয়টি চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে সকাল ন’টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে যেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাইনুদ্দিন মৃত্যুর আগে রোববার ফেইসবুকে জবানবন্দি দিয়ে গেছে যে, তার মৃত্যুর জন্য শ্বশুর-শ্বাশুড়ি,স্ত্রীর বড় ভাই এবং একজন ই্উপি সদস্য দায়ী। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।