চাঁদপুর ঈদগাহ বাজারে মেঘনার ভাঙ্গন হুমকির মুখে শরিয়তপুর ফেরীঘাট ও বিআইডাব্লিউটিএ টার্মিনাল স্থাপনা

মিজানুর রহমান॥

চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ে ১১ নং ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ইব্রাহীমপুর গ্রাম ও ঈদগাহ বাজারে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাংগনে প্রায় পঞ্চাশটি বসতঘরের ভিটেমাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মাটি ধস অব্যাহত থাকায় সেখানকার অন্যান্য বাড়িঘরও ভেঙ্গে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অকালে কেটে ফেলা হচ্ছে মূল্যেবান গাছপালা। ভাঙ্গন প্রবনতা মারাত্মক আকার ধারন করায় নদী ক্রমশঃ শরিয়তপুর ফেরীঘাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফেরীঘাট রক্ষার জন্য সিসি ব্লকের যে বাঁধ দেয়া হয়েছিলো সেটি পুরোটাই এখন নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নিরূপায় হয়ে ভাঙ্গন কবলিত জনপদের পরিবারগুলো শরিয়তপুর সড়কের আশপাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরজমিনে দেখা যায়, ইব্রাহীমপুর পুরো গ্রামই এখন মেঘনার ভয়াবহ ভাংগনের শিকার। নদীর ভাংগন হতে প্রায় এক’শ মিটার দুরত্বে রয়েছে ঈদগাহ বাজার। পাশেই বিআইডাব্লিউটিএর বিরাট পরিসরের টার্মিনাল স্থাপনা। এর কাছাকাছি আবার শরিয়তপুর ঈদগাহবাজার ফেরীঘাট । চলমান নদী ভাংগনে এখন হুমকির মুখে সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা । ফেরী চলাচলের জন্য বিআইডাব্লিউটিএর ড্রেজিং ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বিচারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার কারনে ঈদগাহ বাজার ও ফেরীঘাট এলাকায় এ বছর ব্যাপক নদী ভাংগনের সৃস্টি হয়েছে বলে ক্ষোভ গ্রামবাসীর। সম্প্রতি স্থানিয় সংসদ সদস্য ডা.দীপু মনি ভাংগন স্থান পরির্দশন করেছেন। এমপির নদী ভাংগন পরির্দশন উপলক্ষে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাশেম খান ঈদগাহ বাজারে আলোচনা সভার আয়োজন করেন । সেখানে অধিকাংশ বক্তা ড্রেজার দ্বারা অপরিকল্পিত ভাবে এবং সেলিম চেয়ারম্যানের অবৈধভাবে ব্যাপক বালু উত্তোলনকে দায়ি করেন। চেয়ারম্যান কাশেম খান ওই সভায় বলেন ৪/৫ বার নদী ভাংগনের শিকার তাঁর পরিবার। এ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার আঃ মন্নান মনা গাজী জানান, যে ভাবে নদী ভাংছে ইব্রাহীমপুর গ্রাম আর থাকবেনা। পাশের শরিয়তপুর জেলার সীমানা অতিক্রম করবে । গ্রামের কয়েক’শ পরিবার অনিশ্চিতয়তার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন,আমরা রিলিফ চাইনা, নদী ভাংগন হতে বাঁচতে চাই। এমপির কাছে এ দাবি জানিয়েছেন।
হামিদ দেওয়ান বাড়ির মোক্তার শেখ,ওহাব শেখ,বাবুল শেখ, হালিম ঢালী, সোবহান গাজী জানায় তাদের বাড়ির ১৫ থেকে ২০ টি বসত ঘর ভাংগনের কবল হতে ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে। স্থানিয় বাসিন্দা নাছির পাটওয়ারী ও আলী হোসেন জানান, হাওলাদার বাড়ির বারেক হাওলাদার, আলাউদ্দিন দেওয়ানের বসতভিটে, জায়গা জমি ,গাছপালা নদীতে চলে গেছে। তারা আরো জানায়, হাইমচরের ঈশানবালায় গত দুই বছর নদী ভাংছে । আমাদের এখানে নদী ভাংগন ছিলনা ড্রেজিং এবং বালু কেটে বিক্রি করায় এখানে বড় গর্তের সৃস্টি হয়েছে। যার ফলে নদীর তীব্র ¯্রােতে ইব্রাহীমপুর গ্রাম এ বছর ভাংছে। নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানায়, সেলিম চেয়ারম্যান চরের গুচ্ছ গ্রামের জন্য এ এলাকা থেকে প্রচুর বালু কেটে সরকারের কাছে বিক্রি করেছে। তখন কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তাদেরকে মামলার ভয় দেখানো হয় ।
এ দিকে নদী ভাংগনের খবর পেয়ে ইব্রাহীমপুর ও ঈদগাহ ফেরীঘাট এলাকার ভাংগন পরিস্থিত পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল হাই ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা।