চাঁদপুরে ১৫ জন আনসারের পাহারার মধ্যেও শিক্ষিকা খুন!

স্টাফ রিপোর্টারঃ চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় ও স্টাফ কোয়ার্টার দেখাশুনার জন্য ১৫ জন আনসার প্রতিনিয়ত দায়িত্ব পালন করছে।এত কঠোর নজরদারির মধ্যেও ২১ জুলাই রোববার কি করে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী(৪৫) খুন হয়?এমন নানা গুঞ্জনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ডিউটি করা আনসার কামাল উদ্দিন জানান, ৩ সিফটে ৮ ঘন্টা করে আমাদের ডিউটি করতে হয়।স্টাফ কোয়ার্টারে ঢুকার জন্য ১টি মাত্র প্রবেশ পথ।দুপুরে আনসার ইউনুছ ভাই সহ ৪ জন ডিউটিতে ছিলো।এটি যেহেতু রেস্টিকশন এরিয়া।তাই যেই কাউকে এখানে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হয়।ঘটনার আগে পরে কে ঢুকেছে তা ইউনুছ ভাইরা বলতে পারেন! চাঁদপুর মডেল থানার এস আই অনুপ চক্রবর্তী জানান,জয়ন্তি চক্রবর্তীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।কারন পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুন হওয়া এই স্টাফ কোয়ার্টারটিতে জয়ন্তী চক্রবর্ত্তী একা বসবাস করতেন।আমরা তার ঘরে ঢুকে তেমন কোন চুরি বা ডাকাতির আলামত পাই নি।তবে তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি।খুন হওয়া জয়ন্তী চক্রবর্ত্তীর কর্মস্থান ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বাবুল জানায়,জয়ন্তি হঠাৎ করেই স্কুল থেকে ছুটি নেয়! আমি বিষয়টি পরে শুনেছি এবং তাৎক্ষনিক পুলিশকে জানিয়েছি।চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, খুন হওয়া জয়ন্তী চক্রবর্তীর স্বামীর নাম অলোক কুমার গোস্বামী।যিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব রক্ষক পদ থেকে কয়েক মাস পূর্বে অবসরে গিয়েছেন।জয়ন্তিকে এভাবে নৃশংস খুনের মাধ্যমে সরিয়ে দিয়ে কার লাভ হলো ঠিক বুজতে পারছি না! আমি ঘটনায় জড়িত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।রহস্যজনক এমন হত্যাকন্ডের খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পুলিশ সুপার পদোন্নতি প্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ ও প্রশাসন) মোঃ মিজানুর রহমান।তিনি সাংবাদিকদের জানান, জয়ন্তির মৃত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেছে শিশু শিক্ষার্থীরা। আমরা তার শরীরে সোনার গয়না দেখতে পেয়েছি। তাছাড়া তার ঘরের আসবাবপত্র ও আলমারি যেমনটি থাকার তেমনি রয়েছে।যেজন্য এ খুনের ঘটনাটি নানা রহস্যের জন্ম দিচ্ছে।তবে আমরা ঘটনাটি সুস্ঠ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক রহস্যের তথ্য উদঘাটন করতে পারবো বলে আশা করছি। স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান, জয়ন্তির ১ ছেলেসহ ২ উপযুক্ত মেয়ে রয়েছে।বড় মেয়ে অনন্যা গোস্বামী এশিয়ান প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে ও ছোট মেয়ে তন্নী গোস্বামী এসএসসি পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হলো।আর একমাত্র ছেলে পার্থ সারথী গোস্বামীও ঢাকা নটরডেম কলেজে অধ্যয়নরত।ঘটনা শুনার কয়েক ঘন্টা কেটে গেলেও জয়ন্তীর পরিবারের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি! এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে এ ঘটনায় তেমন কোন উদ্দিগ্নও দেখা যায়নি! আমরা নানা রকম গুঞ্জন শুনলেও কিছু বলতে রাজি নই। খবর নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জয়ন্তী রাণী ১৯৭১ সালের ৪ মার্চ শাহরাস্তি উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।পরে তিনি প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে ১৯৯০ সালর ১৬ মে প্রথম যোগদান করলেও। ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ থেকে তিনি ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।এদিকে সচেতন মহল এ নৃশংস খুনের সাথে জড়িত সকলকে তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ দ্রুত গ্রফতার করবে এমনটিই প্রত্যাশা করছে।