চাঁদপুরে সার্জারী ডাঃ হাসানুর রহমানের গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুশয্যায়

রফিকুল ইসলাম বাবু ঃ
চাঁদপুরে সার্জারী ডাঃ হাসানুর রহমানের গাফিলতির কারনে শাহানাজ বেগম (৪৮) নামের এক রোগী মৃত্যু শয্যায় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ২৯ এপ্রিল সোমবার বিকাল ৫টায় শহরের স্টেডিয়াম রোডের মুন হাসপাতাল(প্রাঃ) শাহানাজ বেগমের জরায়ু টিউমার অপারেশন না করে পেট কেটে সেলাই দিয়ে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী ডাঃ হাসানুর রহমান।

এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ নূরুল হূদা, ডাঃ মাহমুদুন নবী মাসুম, ডাঃ মনিরুল ইসলাম, ডাঃ হাসানুর রহমানসহ রোগীর স্বজনরা বৈঠকে বসেন এবং রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। শাহানাজ বেগম লক্ষীপুর ইউনিয়নের কোটরাবাদ এলাকার আবু তাহের মিজির স্ত্রী। ছেলে শামিম মিজি জানায়, জরায়ু সমস্যার কারনে আমার মাকে ডাঃ শামসুন্নাহার তানিয়ার কাছে নিয়ে গেলে, ডাঃ শামসুন্নাহার তানিয়া দি কমফোর্ট প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এ আল্ট্রাসোনোগ্রাম করার জন্য বলেন। পরে তার কথা মত আমরা সেখানে গিয়ে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করার পর পূনরায় রিপোর্ট নিয়ে তার কাছে যাই। ডাঃ শামসুন্নাহার তানিয়া অপারেশন করার নির্দেশ দিলে আমরা ২৮ এপ্রিল রোববার মুন হাসপাতাল (প্রাঃ) মাকে ভর্তি করি। মা মহিলা চিকিৎসক দিয়ে অপারেশনের কথা বলেছেন বললে, ডাঃ শামসুন্নাহার তানিয়া এ কথা শুনে নিজে এবং তার স্বামী অপারেশনের সময় থাকবেন বলে আমাদের কে কথা দিয়েছেন। কিন্তু ডাঃ শামসুন্নাহার তানিয়া অপারেশনের সময় অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন না। তিনি আরো জানান, চিকিৎসকের কথা মত আমরা আল্ট্রা করালাম। নির্দিষ্ট সময়মত অপারেশনের জন্য ব্যবস্থা করলাম। তাহলে আমাদের ভুল কোথায়? ডাঃ হাসানুর রহমান তাহলে কেন মায়ের পেট কেটে সেলাই দিয়ে অপারেশন থিয়েটার থেকে চলে আসলেন। মেয়ে সুমি আক্তার জানায়, আমার মায়ের অবস্থা বেশী ভাল নেই। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।এ বিষয়ে সার্জারী ডাঃ হাসানুর রহমান জানায়, আল্ট্রাসোনোগ্রামে টিউমারটি যেতটুকু দেখা গিয়েছে, পেট কাটার পর টিউমারটি নাড়ি ভুড়ির সাথে পেচিয়ে রয়েছে এবং আল্ট্রার চেয়ে তা অনেক বড় দেখতে পাই। যার কারনে পেট কেটে সেলাই দিয়ে দিয়েছি এবং ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেই। ১৫ দিন পূর্বের আল্ট্রাসোনোগ্রামের রিপোর্ট দিয়ে রোগীকে কেন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে পেট কাটা হলো সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চাইলে, ডাঃ হাসানুর রহমান আল্ট্রাসোনোগ্রামের রিপোর্টে সমস্যা ও বিভিন্ন ধরনের কথা বলে উত্তর না দিয়ে প্রশ্নটা এড়িয়ে যান। দি কমফোর্ট প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এর ডাঃ মহসিন জানায়, আমাদের আল্ট্রাসোনোগ্রামের রিপোর্ট সঠিক ছিল। টিউমারটির সাইজ যা ছিল, আমরা তা দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে টিউমারটি বড় ছোট হতে পারে। তবে চিকিৎসক অপারেশনের পূর্বে কেন আল্ট্রা করালেন না। এটা তিনিই ভাল বলতে পারেন।