চাঁদপুরে সবুজের মাঝে চোখ জুড়ানো বেগুনি রঙের ধানক্ষেত

মো. শিমুল হাছান 
                       সবুজের মধ্যে বেগুনের রঙ। আচার্য না! চারদিকে সবুজ ধান ক্ষেত থাকলেও মাঝখানে এক টুকরো জমিতে বেগুনি রঙের ধান গাছ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কৃষকের আগ্রহে সবুজের মধ্যে রঙ্গিন ধানক্ষেত।
চলতি বোরো মৌসুমে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাহাপুর গ্রামে সোনালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিতে কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী বেগুনি রঙের ধানের আবাদ করে সবার নজর কেড়েছেন।
সবুজ ধানের বেষ্টনির মধ্যে বেগুনি এই ধান ক্ষেতটি দেখলে মনে হতে পারে কোন আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধানের ছবি। আসলে এর কোনটিই নয়, এটি এমন একটি ধানের জাত, যার পাতা ও কান্ডের রঙ বেগুনী। শুধু ধান গাছ নয় এর চালের রং ও বেগুনী। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এই ধানের পরিচিতি বেগুনী রঙের ধান/ রঙ্গিন ধান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী নিজ উদ্যোগে আগ্রহের বসে এই ধান চাষাবাদ করেছেন। ভিন্ন রঙের ধান ক্ষেতটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারিদের দৃষ্টি কেড়েছে। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ধানগাছে ফুল অবস্থায় রয়েছে।
এসর্ম্পকে কৃষক আক্তারুজ্জামন পাটওয়ারী এ প্রতিনিধিকে জানান, তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ২৫ শতাংশ জমিতে এই ধানের আবাদ করেছি। শুনেছি তিনি চীন থেকে এই বীজ সংগ্রহ করেছেন। এখন পর্যন্ত ধানক্ষেতের অবস্থা ভালো। গাছ থেকে ধানের ছড়া বের হতে শুরু করেছে। মাত্র দুই কেজি ধানবীজ দিয়ে চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপন করি। আশাকরি অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন হবে।
এবিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূরে আলম জানান, ওই কৃষক নিজ উদ্যোগে বীজ সংগ্রহ করে রঙ্গিন ধান আবাদ করেছে। আমরা বেগুনি রংয়ের ধানক্ষেতটি পর্যবেক্ষন করে দেখেছি। এর ফলন কি রকম হবে তা জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে এই ধানের আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেগুনি রঙের এই ধান বিদেশী জাত নয়, দেশীয় শুক্রানু প্রাণরস (জার্মপাজম)। মাঠ পর্যায়ের অবস্থা বিবেচনায় ধানটির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ দিন এবং ফলন একরে ৫৫ থেকে ৬০ মণ। যা আনুমানিক শতাংশে ২০ কেজি (৪ থেকে ৫ টন প্রতি হেক্টরে) হতে পারে। এই ধানের চাল হবে বেগুনি ও সুস্বাধু।