চাঁদপুরে মানসিক প্রতিবন্ধীকে ছেলে ধরা গুজবে মারধর, অবশেষে রক্ষা

শাহরিয়ার খান কৌশিক,
পদ্মসেতুর জন্যে মানুষের মাথা লাগবে। এজন্যে অসংখ্য ছেলেধরা নেমেছে। এমন গুজবে বিশ্বাসী মানুষগুলো ছেলেধারা বা পোলাচোর সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী
শাহাদাত (১৬)নামে এক কিশোরকে আটক করেছে। অধিকাংশ উৎসুক জনতা ছেলেটিকে পিটাইয়া, পারাইয়া মাইরালা শ্লোগান দিতে থাকে। এই পক্ষে শিক্ষিত, ভদ্র মানুষও আছেন। দু’চারজন ছেলেটাকে পুলিশে দেয়ার পক্ষে। এ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ হট্টগোল চলছে। মুহূর্তেই শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায় চাঁদপুর কালিবাড়ি রেলস্টেশনে। তাদের অধিকাংশ কিশোর ছেলেটিকে হত্যা করার পক্ষে।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে কিশোরটিকে উদ্ধার করে পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। বাইরে অপেক্ষমান এই মানুষগুলোর মাথায় তখনো আগুণ চড়ছে। অথচ তাদের কেউ সত্যি ঘটনা জানে না। কিংবা তারা শিশু চুরি করতে দেখেওনি।
প্রকৃত ঘটনা চাঁদপুর জেলাধীন শাহরাস্তি উপজেলা দক্ষিণ দেবকড়া গ্রামের রওশন আলীর ৮ বছরের শিশু আলামিন কে ঢাকা ধানমন্ডি আলিমুল কুরআন হাসানিয়া কওমি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বেরিয়ে সদরঘাট এসে লঞ্চ যোগে রাতে চাঁদপুরে আসে।
শিশু আল আমিন রাতে চাঁদপুর কালীবাড়ি কোট স্টেশন এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ বাজার রঘুনাথপুর গ্রামের প্রবাসী নজিবুল্লাহ মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোর আলামিন শিশুটিকে দেখতে পেয়ে পাশে বসে।
এ সময় কিছু লোক ছেলেধরা গুজব ছড়েিয় মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে আটক করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে মারধর করতে থাকে।
পরে তাকে পুলিশ বক্সে নিয়ে আসলে খবর পেয়ে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারী ঘটনাস্থলে এসে প্রকৃত ঘটনা ঠিক জেনে গুজব ছড়ানো জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পরে পুলিশ মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরকে ও মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসা শিশু আলআমিনকে থানায় নিয়ে এসে তার তাদের পরিবার দের খবর দিয়ে থানায় এনে তাদের জিম্মায় তাদেরকে তুলে দেয়।
মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোর আলামিনের মা মনসুরা বেগম জানায়, আমার ছেলে দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক প্রতিবন্ধী। সে প্রায় সময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে। তাকে ছেলেধরা সন্দেহে যারা ধরেছে তা সম্পূর্ণ গুজব, যারা গুজব ছড়েিয় তাকে মেরেছে তাদের বিচার দাবি করছি।